নজরবন্দি ব্যুরোঃ সবে শেষ হয়েছে দুর্গোৎসব, লক্ষ্মীপুজো। এখনও বাকি কালীপুজো, ভাইফোঁটা। কিন্তু তারই মাঝে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলা। গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বহু এলাকা জলমগ্ন। সব থেকে ক্ষতির মুখে পড়েছে পাহাড়। টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ ঠিক কতটা ক্ষতির মুখে পড়েছে তা খতিয়ে দেখতে রবিবারই সেখানে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ আরিয়ানকে দেখে আসার পরেই মান্নাতে এনসিবি টিম, কি তথ্য পেল শাহরুখের বাড়ি থেকে?
নবান্ন সূত্রে খবর, ২৪ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী, পৌঁছাবেন উত্তরকন্যায়। সেখান থেকেই ঠিক করা হবে ২৫ তারিখের কর্মসূচী। তবে জানা গিয়েছে, ২৬ তারিখ কার্শিয়াংয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। তারপর ২৭ তারিখ উত্তরকন্যায় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ব্যাপক বৃষ্টিতে উদ্ভুত বন্যা আর ভূমি ধসে উত্তরবঙ্গের যে সমস্ত এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, সেই সব এলাকা পরিদর্শনেও যাবেন মমতা। যদিও তাঁর সফর নির্ভত করছে আবহাওয়ার ওপর। এরমধ্যে যদি আবহাওয়া খারাপ হয় তাহলে সফর বাতিল হতে পারে তাঁর।
উল্লেখ্য, নিম্নচাপের জেরে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং জলপাইগুড়ি জেলা সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই। এরফলে ব্যপক হারে জল বেড়েছে তিস্তা, মহানন্দা সহ প্রতিটি নদীতেই। তিস্তায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় তিস্তার বাঁধে একাধিক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর বাঁধ উপচে জল ঢুকে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ময়নাগুড়ি ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম। নষ্ট হয়েছে একরের পর একর জমির ফসল। সব মিলিয়ে আতঙ্কিত বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষেরা।
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়, ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

টানা ৪৮ ঘন্টার লাগাতার বর্ষনে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পাহাড় থেকে বয়ে আসা তিস্তা। পাহাড় থেকে প্রবল জলধারা নিয়েই জলপাইগুড়ি জেলাতে এসেই তৈরী করেছে বন্যা পরিস্থিতি। তিস্তার জল ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাজলডোবা ক্যানেল থেকে জল ছাড়তে বাধ্য হয় তিস্তা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। রাত বারোটা পর্যন্ত ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে তিস্তা নদীর গাজলডোবা ব্যারেজ থেকে। আর এর ফলেই নদী বাঁধ ছাপিয়ে ময়নাগুড়ি ব্লকের নদী লাগোয়া বেশ কয়েকটি গ্রামে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে গভীর রাতে।
জলমগ্ন হয়ে পড়ে ব্লকের ক্রান্তি, মৌয়ামারি, চাপাডাঙা, নন্দনপুর, বোয়ালমারী, পাতকাটা, উত্তর মরিচবাড়ি, মরিচবাড়ী, দোমহনি, দুপপাড়া দোমহনি, পদমতি ১, পদমতি ২, বাকালী, বার্নিশ, বাসুসুবা ইত্যাদি এলাকা। বুধবার রাত থেকে সামান্য হলেও উন্নতি হয়েছে আবহাওয়ার। তবে এখনই বৃষ্টি থেকে রেহাই নেই উত্তরবঙ্গবাসীর।



