মিনিট ১০ দাঁড়িয়ে বিশ হাজার কোটির প্যাকেজ চেয়ে মমতা গেলেন দিঘায়

মিনিট ১০ দাঁড়িয়ে বিশ হাজার কোটির প্যাকেজ চেয়ে মমতা গেলেন দিঘায়
মিনিট ১০ দাঁড়িয়ে বিশ হাজার কোটির প্যাকেজ চেয়ে মমতা গেলেন দিঘায়

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মিনিট ১০ দাঁড়িয়ে বিশ হাজার কোটির প্যাকেজ চেয়ে মমতা গেলেন দিঘায়, তবে এই বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর হবে কিনা সেই নিয়ে সকাল থেকে পারদ চড়েছে। সাগরের বৈঠকে মমতা ‘না’ উত্তর দিলেও অনেকেই ভাবছিলেন কলাইকুন্ডা যাচ্ছেন যখন বৈঠকে থাকতেও পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে কার্যত তা হলোনা।

আরও পড়ুনঃ ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে সপাটে থাপ্পড়! রুদ্রনীলের অভিযোগ মিথ্যে বলছে তৃণমূল

ঘটনা যা হোল তাতে তিনি সাগরদ্বীপ থেকে কলাইকুন্ডা গেলেন। সমস্ত প্রোটোকল মেনে স্বাগত জানালেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। ক্ষয়-ক্ষতির রিপোর্ট হ্যান্ডওভার করলেন এবং চপারে গেলেন দিঘার দিকে। ইয়াসের পর পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা এবং ক্ষয়-ক্ষতির পর্যালোচনা করতে আজই আমনে সামনে বসার কথা ছিলো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কাল নবান্ন থেকে মমতা নিজে জানিয়েছিলেন, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী আসবেন, আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, আমি যাবো, মিট করবো।

কিন্তু রাত থেকেই গল্প ঘুরে যায়। দিল্লি থেকে নবান্ন’তে খবর আসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কলাইকুন্ডার বৈঠকে থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং শুভেন্দু অধিকারী। তার পর থেকেই বেঁকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম থেকেই গররাজি ছিলেন তিনি।  আজও সাগর দ্বীপের বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্তিত থাকবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে উত্তর দিয়েছিলেন বৈঠকে শুধু ক্ষয়ক্ষতির হিসেব যাবে তিনি যাবেন না! সঙ্গে জানিয়েছিলেন “আমাকে কলাইকুন্ডায় যেতে হবে। যেতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগবে। আমাদের একটা কাগজ হ্যান্ডওভার করতে হবে। তাই জাস্ট ১৫ মিনিটের জন্য আমাকে যেতে হবে। আমি রিভিউ মিটিংটায় থাকছি না। জাস্ট কাগজটা হ্যান্ডওভার করব, কোথায় কী ক্ষতি হয়েছে। যতটা এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে আছে।”

এবং হোলও তাই। প্রোটোকল মেনে দেশের প্রধান্মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সোজা গেলেন দিঘায়। তবে এরিপোর্ট দিয়ে গেলেন এই কদিনে পাওয়া ক্ষয় ক্ষতির এবং হিসেব-নিকেশের। ইয়াসের পর থেকেই তৎপরতার সঙ্গে খোঁজ করেছেন কোন জায়গার অবস্থা কেমন? বাঁধ ভাঙা থেকে রাস্তা সব ক্ষতির হিসেব তুলে ধরেছেন একে একে। সেসব একত্রিত করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

বিপর্যস্ত বাংলাকে সুস্থ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্যাকেজ চেয়েছেন বিশ হাজার কোটি টাকার । দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা জানিয়েছেন দিঘার উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার যদি একটা প্যাকেজ আর সুন্দরবন উন্নয়নের জন্য যদি ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকে,করা যায়। মোট ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ চেয়েছেন।  তবে সঙ্গে যোগ করেছেন, ” জনি না হয়ত আমরা কিছুই। কিন্তু যাই হোক প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বলে এসেছি আপনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন অত দূর থেকে এসে রিপোর্টটা দিয়ে গেলাম। দিঘায় যেতে হবে। আমি আপনার অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি।”

মিনিট ১০ দাঁড়িয়ে বিশ হাজার কোটির প্যাকেজ চেয়ে মমতা গেলেন দিঘায়। দিনভর শুভেন্দুর উপস্থিতির কারণে মমতা থাকছেন না এই জল্পনা চলেছে সব মহলেই। তবে দিঘার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মমতা বললেন দিঘা আসতে হতো তাই কলাইকুন্ডায় বৈঠক সম্ভব হয়নি। দিঘাতেই তিনি জানান, “সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে তারপর আমরা কলাইকুন্ডায় গিয়েছিলাম। কারণ প্রধানমন্ত্রী একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। কিন্তু আমরা তো জানতাম না, আমাদের দিঘায় কর্মসূচি ছিল। তবু আমরা কলাইকুন্ডায় গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে আমাদের যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার একটা রিপোর্ট আমি আর মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়ে এসেছি। আমরা রিপোর্ট ওনার হাতে তুলে দিয়ে বলেছি আপনি যা ভাল বুঝবেন তাই করবেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here