নজরবন্দি ব্যুরো: ‘নেতাজির জন্মদিনে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করুন!’ মোদিকে চিঠি মমতার। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীতে জাতীয় ছুটির ঘোষণার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের অন্তর্ধান রহস্যের উপর থেকে পর্দা সরানোর আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ফেসবুকে পরিবার নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট। পুলিশের দ্বারস্থ সৌমিত্র কন্যা।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির ভূমিকা তুলে তিনি লিখলেন,“আগামী ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ দেশজুড়ে নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হবে। নেতাজি শুধু বাংলার সুপুত্রই নন, তিনি জাতীয় নায়কও। তাঁর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসন উপড়ে ফেলতে আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দিয়ে চরম বলিদান দিয়েছেন হাজার হাজার স্বাধীনতা সংগ্রামী। প্রতিবছর দেশজুড়ে নেতাজির জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়। নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে জাতীয় ছুটি ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি আমরা।
বহুদিন ধরেই কেন্দ্র সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়ে আসছি আমরা। তাই জাতীয় নায়ককে যোগ্য সম্মান দিতে ২৩ জানুয়ারি জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হোক।” এই চিঠিতে জাতীয় ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নেতাজীর অন্তর্ধানের উপর থেকে পর্দা সরানোর ব্যাপারেও আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও চিঠিতে দেশ এবং বাংলার মানুষের অধিকারের কথাও এদিন তিনি উল্লেখ করেছেন। আর এবিষয়েও বেশকিছু গোপন ফাইল ও সকলের সামনে এনেছে রাজ্য সরকার।
এবার সেই রহস্যের সমাধান করে তা জনসমক্ষে পেশ করুক কেন্দ্র। উল্লেখ্য, নেতাজির মৃত্যুর পর থেকেই বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে উঠে এসেছে নানা তথ্য। ‘বোস ক্যান বি এ মেজর থ্রেট, ফাইন্ড হিম নাউ’। অর্থাৎ ‘বোস বড়সড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এখনই তাঁকে খুঁজে বের কর।’ ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগকে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ভিক্টর হোপ। তারপরই ১৯৪১ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার বাড়ি থেকে নেতাজির অন্তর্ধানের পর রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় সাহেবদের মধ্যে।
তারপর বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মণিপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযান সবই ইতিহাস। নেতাজিকে নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে ছিলেন সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশরা। তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু-রহস্য নিয়ে তিন-তিন বার তদন্তও চালায় ব্রিটিশ সরকার। ভারতেও একাধিক কমিশন তদন্ত চালালেও তাতেও প্রমাণ আজও মেলেনি। ফলে সেই বিষয়েই আবারও দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে বলেছেন,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



