নজরবন্দি ব্যুরোঃ মিথ্যে বলা বন্ধ করে গর্ব করুন! চাকরিপ্রার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্যে বেকার বা চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন নতুন কোন ঘটনা নয়। কিন্তু লকডাউন চলাকালীন রাজ্যের লাখো বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী প্রতিবাদের যে পথ বেছে নিয়েছেন তা এক কথায় অনবদ্য। লকডাউনে বাড়িতে বসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রতিবাদ। উচ্চ প্রাথমিক, গ্রুপ ডি, ভিআরপি, শিক্ষক সংগঠন থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নাম লেখানো চাকরি প্রার্থীরা ঝড় তুলেছে ভার্চুয়াল দুনিয়া কে হাতিয়ার করে। মুখ্যমন্ত্রী থেকে সচিব আমলা বা বিভিন্ন দফতরের অফিশিয়াল ইমেইল সব কিছুতেই হাজার হাজার প্রতিবাদী মেইল পৌঁছেছে গত ৩ মাসে।
আরও পড়ুনঃ কতক্ষন এবং কিভাবে লকডাউন, ছাড় কোন ক্ষেত্রে? বিবৃতি জারি করল নবান্ন।
দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রী, অভিষেক ব্যানার্জী বা পার্থ চ্যাটার্জির মত নেতারা ফেসবুকে লাইভ হলেই তাঁর তলায় হাজার হাজার কমেন্টে প্রতিবাদী আর্তনাদ। অবস্থা এমন যায়গায় পৌঁছেছে যে পার্থবাবু বন্ধই করে দিয়েছে কমেন্ট করার অপশন। কিন্তু এতে সরকারের টনক নড়া তো দূরের কথা বরং বেশ চটেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসব কিছুই তাঁর মনে হয়েছে বিরোধীদের চক্রান্ত। আজ একুশে জুলাই ভার্চুয়াল সভামঞ্চ থেকে তিনি কর্মসঙ্গস্থান প্রসঙ্গে জবাব দিলেন।
মিথ্যে বলা বন্ধ করে গর্ব করুন! এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আমরা প্রায় ৫২০টা ক্লাস্টার তৈরি করেছি, ৬৫টা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি করেছি। এছাড়াও বাংলাশ্রী প্রকল্পে অনেক ক্ষুদ্র শিল্পকে আমরা ভবিষ্যতে ইনসেন্টিভ দেব। কর্মসাথী প্রকল্পে এক লক্ষ বেকার যুবক যুবতীকে ঋণ দেব। রাজারহাটে নির্মীয়মাণ বেঙ্গল সিলিকন হাব এবং বানতলায় লেদার কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। এগুলোতে পাঁচ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। হাওড়া জেলাতেও নানান ক্লাস্টারে আরও পাঁচ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সারাদেশে যখন বেকারত্বের হার ৪৫ শতাংশ বেড়ে গেছে সেখানে বাংলায় তা ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এটা নিয়ে গর্ব করবেন না আপনারা? শুধু মিথ্যে কথা বলবেন? শুধু মিথ্যে কথা বললে হবে৷ বাংলায় এক কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।“
এদিকে ভার্চুয়াল সভা মানেই সোশ্যাল মিডিয়াকে অনেকটাই ব্যাবহার। আর সোস্যাল প্ল্যাটফর্ম এমন একটা মাধ্যম যেখানে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারে বক্তার মনের জোর বাড়ে। কিন্তু কি দেখা গেল এদিন। হাজার হাজার মানুষ যারা দেখছিলেন অনলাইন সমাবেশ তাঁদের বেশির ভাগই রাজ্যের শিক্ষিত বেকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাইভ সভার কমেন্ট বক্সে ঝড় তুলল বঞ্চনার কাহিনী। কমেন্ট বক্সে অনেকে লিখলেন “স্কুল সার্ভিস কমিশন দীর্ঘ ৭ বছর আপার প্রাইমারি #Upper_primary নিয়োগ সম্পন্ন না করে হাজার হাজার ছেলে মেয়ের জীবনকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে। মাননীয়ার নিকট বিনীত অনুরোধ আমাদেরকে এই চূড়ান্ত পথ যেন বেছে না নিতে হয় তার ব্যবস্থা করুন। ভালো থাকবেন“
“দিদি প্রণাম নেবেন,আজ যে এই যৌবন নিয়ে সামনে এগোনোর একটা প্রয়াস চলছে সেটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আমি তাদের ই একজন, MSc Bed, পাস করে স্কুলে শিক্ষকতার স্বপ্ন দেখেছি। এবং আমাদের এই সংখ্যাটা নিতান্ত কম নয়, 20-25 লাখ এবং আমাদের সাথে জড়িত বা নির্ভরশীল আমাদের পরিবার এর সদস্য যোগ করলে সংখ্যাটা 1.5 – 2 cr কম নয়। কিন্তু বিগত 10 বছরে আমরা একবার ও ssc তে বসার সুযোগ পাইনি। কারণ এসএসসি হয়েছে শেষ 2016 তে। আজকে এই যুব সম্প্রদায় প্রায় ধ্বংসের দিকে। তাই আগামী তে এই যুব সাম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে চলার জন্য তাদের শিক্ষকতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হবে। এ জন্য নতুন SLST এর পরীক্ষা নিয়ে ভোটের আগে নিয়োগ সম্পন্ন করলে এই যুব সমাজ আবারও আস্থা ফিরে পাবে, এবং সমাজ কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দয়া করে এই শিক্ষিত যুব সমাজের কথা টা ভুলে যাবেন না, এরা সংখ্যায় খুব একটা নগণ্য নয়।“ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিতদের হাজারো কমেন্টে ভরে উঠল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কমেন্ট বক্স। শহিদ তর্পনের দিনে রাজ্যের লাখো বেকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ইঙ্গিত দিয়ে দিল আগামী ২১শের নির্বাচনে ঠিক কি ঘটতে চলেছে।



