নজরবন্দি ব্যুরোঃ পিএমও ছেড়ে এসে এখানে করোনা ছড়াচ্ছে, শনিবার পূর্বস্থলী উত্তর ও দক্ষিণের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এভাবেই আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভারতে যে ভাবে সংক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নিস্ক্রিয়তাকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ করোনা পরিস্থিতি না সামাল দিয়ে বিজেপি-র হয়ে প্রচারে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্র কে ঘিরে বিক্ষোভ, গো ব্যাক স্লোগান! ব্যাপক লাঠিচার্য পুলিশের।


এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী নামের এক জন মিথ্যেবাদী প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। শুধু মিথ্যে বলে, ধোঁকা দিয়ে দিয়ে রাজ্যে রাজ্যে দাঙ্গা বাঁধাচ্ছেন। কোভিড ছড়িয়ে দিয়েছেন। একটা কাজও করতে পারেন না। আজ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর একটা বিবৃতি দেখলাম। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের ওখানে কোভিড বাড়ছে। তাই অক্সিজেন, প্রতিষেধক চাইছেন। কিন্তু পিএমও-র অফিস জানিয়েছে, বাংলায় ভোটের প্রচারে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই কথা বলা যায়নি। আপনারাই বলুন, এই মুহূর্তে কোনটা জরুরি?’’
পিএম কেয়ার্স নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলে, ‘‘দিন ২ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। গত ছ’মাস কোভিড ছিল না। ইঞ্জেকশন দিয়ে দিলে হতো। টাকা ছিল। পিএম কেয়ার্সে টাকাও ছিল। ছিল ইঞ্জেকশনও। সে সব অন্য দেশকে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের লোককে দেয়নি। এই হচ্ছে নরেন্দ্র মোদী। মুখে গরম গরম কথা বলবে। যেন রসগোল্লা খাচ্ছে গরম গরম। কাজের বেলায় কিছু নেই।’’
বাহিনী নিয়ে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী, তিনি বলেন, আমাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। আর বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে গিয়ে মধ্যাহ্ণভোজ করাচ্ছে। ভোট মিটলে করাতে পারত?। এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উদ্দেশ্যেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বলব স্বাধীন ভাবে কাজ করুন। বিজেপি-র কথায় চলবেন না। ওরা চলে যাবে। আপনাদের কাজ করতে হবে। নিজেদের বদনাম হতে দেবেন না।


পিএমও ছেড়ে এসে এখানে করোনা ছড়াচ্ছেন মোদি! অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “বাংলায় করোনা ছিল না। বাইরে থেকে গুন্ডাদের নিয়ে চলে এসেছে। পাড়ায় পাড়ায় বসে রয়েছে। হোটেল, গেস্টহাউস, বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছে। সবার করোনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চ সাজানোর কাজ যে করে, সে-ও বাইরের। এখানে করোনা ছড়ালে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী দায়ী হবেন। কমিশনকে বললাম দফা কমিয়ে দিতে। তা না করে প্রচারের মেয়াদ কমিয়ে দিল। কারণ বিজেপি-র আর তেমন প্রচার নেই। এই পা নিয়ে প্রচার করে বেড়াচ্ছি। তা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার দিনগুলো নষ্ট করে দিল। আগামী দিনে যে কেন্দ্রে ভোট, বিজেপি জানে তার একটাতেও জিতবে না। তার জন্যও প্রচারের সময় কমিয়ে দিল!”







