‘পুরনো প্রকল্পই নতুন মোড়কে’: ডানকুনি করিডর নিয়ে নির্মলার বাজেটকে ‘ফাঁকিবাজি’ বলে তীব্র আক্রমণ মমতার

ডানকুনি–সুরাট ফ্রেট করিডর নতুন নয়, দাবি মমতার। ২০০৯ সালের ঘোষণাকেই বাজেটে নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে বলে নির্মলার বাজেটকে ‘ফাঁকিবাজি’ আখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র সমালোচনায় মুখর হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ডানকুনি–সুরাট পণ্য পরিবহণ করিডর ঘোষণাকে ‘পুরনো প্রকল্প নতুন করে সাজিয়ে পরিবেশন’ বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ঘোষণা নতুন নয়, বরং বহু বছর আগেই তাঁর হাত ধরেই এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল।

রবিবার বাজেট বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর দিল্লি যাওয়ার পথে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ডানকুনির পণ্য করিডর নতুন কিছু নয়। ২০০৯ সালের রেল বাজেটে আমি নিজেই এই করিডরের ঘোষণা করেছিলাম।” কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলকে কটাক্ষ করে তাঁর আরও মন্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভোট পাবে না জেনেই রাজ্যকে বঞ্চনা করা হয়েছে।”

ডানকুনি থেকে পশ্চিম ভারতে সরাসরি পণ্য পরিবহণ করিডর তৈরির ভাবনা অন্তত ১৭ বছরের পুরনো। ২০০৯ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডানকুনি থেকে পঞ্জাবের লুধিয়ানা পর্যন্ত একটি ফ্রেট করিডরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ও বাণিজ্যকে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী করা। যদিও এত বছর কেটে গেলেও প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ পায়নি।

এ বার ২০২৬–২৭ সালের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বাংলার জন্য যে কয়েকটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম এই ডানকুনি করিডর। তবে নতুন ঘোষণায় ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত কার্গো ফ্রেট করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পুরনো পরিকল্পনাকেই নতুন মোড়কে তুলে ধরা হয়েছে।

বাজেটকে সামগ্রিকভাবেও একহাত নিতে ছাড়েননি তৃণমূল সুপ্রিমো। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, “এই বাজেট দিশাহীন। মহিলা-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী, দরিদ্র-বিরোধী ও জনবিরোধী বাজেট। বাংলাকে কিছুই দেয়নি।” আরও তীব্র ভাষায় তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যের স্তূপ—টকিং বিগ বিগ, ডুয়িং নাথিং। একেবারে হাম্পটি-ডাম্পটি বাজেট।”

উল্লেখ্য, সোমবার এসআইআর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের আপত্তি তুলে ধরতে পারেন বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর।

সব মিলিয়ে, বাজেট ঘোষণার পরপরই ডানকুনি করিডরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর