কলকাতার রাজপথে ফের শক্তি প্রদর্শন তৃণমূলের। দিল্লির ‘বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা’র বিরুদ্ধে শুক্রবার দুপুরে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের নেতৃত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের শীর্ষ নেতা-মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক থেকে টেলি-তারকা—সবার উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি কার্যত জনসমাবেশে পরিণত হয়। বার্তা একটাই—মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে রাজপথই হবে লড়াইয়ের ময়দান।
যাদবপুরে মিছিল শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বঞ্চনা, অত্যাচার ও অপমানের বিরুদ্ধে রাস্তাই আমাদের রাস্তা—এটাই নেতাজির শিক্ষা।” তিনি যোগ করেন, “২ কোটি মানুষের ভোট কেটে নেওয়া হচ্ছে, অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—তার বিরুদ্ধেই আজকের এই পদযাত্রা।” নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি যাদবপুরকে ‘লড়াইয়ের মাটি, উদ্বাস্তুদের মাটি’ বলেও উল্লেখ করেন।

বিকেল তিনটে নাগাদ মিছিল শুরু হয়। মমতার এক পাশে তৃণমূল সাংসদ দেব, অন্য পাশে বিধায়ক সোহম। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাস-সহ শাসকদলের সাংসদ-বিধায়করা। পিছনের সারিতে দেখা যায় দলের নেতা-নেত্রী ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখদের। রাস্তার দু’পাশে ভিড়—স্লোগান, ব্যানার আর হাততালিতে গর্জে ওঠে জনতা।
এই কর্মসূচির পটভূমিতে রয়েছে বৃহস্পতিবারের ঘটনা। সেদিন Enforcement Directorate আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট ও সল্টলেকের দফতরে তল্লাশি চালায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল ও নথি ‘ছিনতাই’ করতেই এই অভিযান। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা দলের কৌশলগত তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করেছে—যা তাঁর ভাষায় ‘অপরাধ’।
এই প্রসঙ্গে তিনি আঙুল তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দিকে, যাঁর দফতরের অধীনেই ইডি। মমতার হুঁশিয়ারি, এই ‘হামলার প্রত্যুত্তর’ দেবে সাধারণ মানুষ। সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরের বাইরে দাঁড়িয়েই তিনি শুক্রবারের মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন—সেই ঘোষণা মতোই যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত রাজপথে নামল তৃণমূল।


সব মিলিয়ে, দিল্লি বনাম কলকাতা—এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রাজপথকে কেন্দ্র করেই নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করল শাসকদল।









