ফুরফুরায় জোটের জল্পনা তুঙ্গে, ISF এর সাথে জোটে যাচ্ছেন হুমায়ুন?

ফুরফুরা সফরে জোটের জল্পনা উসকে দিলেন হুমায়ুন কবীর। ISF বলছে অফিসিয়াল চিঠি চাই, পাল্টা হুমায়ুনের সাফ জবাব—চিঠি নয়, সরাসরি আলোচনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটমুখী বাংলায় ফুরফুরা শরিফে নতুন সমীকরণের গুঞ্জন। নতুন দল গঠনের পর এই প্রথম ফুরফুরায় পা রাখলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সৌজন্য সাক্ষাৎ থেকে জোট-জল্পনা—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল। কিন্তু প্রত্যাশিত সাক্ষাৎ হল না নওশাদ সিদ্দিকী-র সঙ্গে। উল্টে উঠে এল শর্ত-প্রতিশর্তের রাজনীতি—“অফিসিয়াল চিঠি দিন”—পাল্টা হুমায়ুনের সাফ জবাব, “চিঠি দেব না।”

শুক্রবার জাঙ্গিপাড়ার ফুরফুরা শরিফ-এ এসে জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর প্রথমে পীরজাদা সাফেরি সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে ইব্রাহিম সিদ্দিকীর সঙ্গেও দেখা করতে যান। এরপরই তাঁর গন্তব্য ছিল আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বাড়ি। আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গেও সাক্ষাতের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষার পরও কারও দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত দরবার শরিফে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এই সফরের পরই প্রশ্ন—তবে কি আসন্ন বিধানসভা ভোটে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট-এর সঙ্গে জনতা উন্নয়ন পার্টি-র জোট হচ্ছে? নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্য, “ফুরফুরা ধর্মীয় জায়গা—সবাই আসতে পারেন। উনি যখন এসেছিলেন, আমি ছিলাম না। জোটের ক্ষেত্রে সিপিআইএম ও কংগ্রেসকে চিঠি দিয়েছি। অন্য দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তবে জোট নিয়ে কথা এগোতে হলে অফিসিয়াল যোগাযোগ জরুরি।”

এই শর্তেই আপত্তি হুমায়ুনের। তাঁর পাল্টা সুর, “অফিসিয়াল কোনটা—আমি জানি না। আমি ভনিতা করি না। কাউকে চিঠি দেব না। ইচ্ছা হলে বসবে, না হলে নয়। চিঠি দিয়ে জোট চাইবার মতো দুর্বল জায়গায় আমি নেই। আমি ওপেন কথা বলি।”

এই টানাপোড়েনের মাঝেই খোঁচা তৃণমূলের। ফুরফুরার আর এক পীরজাদা তথা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কাশেম সিদ্দিকী বলেন, “যে কোনও দলের লোক ফুরফুরায় আসতে পারেন। কিন্তু উনি যে উদ্দেশ্যে এসেছেন, তা কোনওভাবেই সফল হবে না।”

সব মিলিয়ে ফুরফুরায় নতুন হাওয়ার জল্পনা থাকলেও, জোটের দরজা আপাতত আধখোলাই—চিঠি বনাম সরাসরি কথোপকথনেই আটকে রয়েছে সমীকরণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন