‘১০ তারিখেই শুরু বাবরি মসজিদের কাজ’, ফুরফুরা শরিফ থেকে বড় ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

ফুরফুরা শরিফ থেকে হুমায়ুন কবীরের ঘোষণা—১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সভা, ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ। বিজেপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নে সাফ না।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আবহে রাজনীতির পারদ চড়িয়ে ফুরফুরা শরিফ থেকে একের পর এক বিস্ফোরক ঘোষণা। নতুন দল গঠনের পর প্রথমবার পবিত্র ফুরফুরা শরিফে গিয়ে ব্রিগেডের সভার দিন ঘোষণা করলেন এবং ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সীমাও জানালেন ভরতপুরের বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। একইসঙ্গে তৃণমূলকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আক্রমণ শানিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে গিয়ে পীরজাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদমাধ্যমে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি কাউকে ভয় পাই না, কাউকে ভয় দেখাতেও চাই না। যারা অত্যাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকারের পতন চায়, তারা ডাকলে আমি যাব।” তবে বিজেপির সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তাঁর সাফ বক্তব্য—“Bharatiya Janata Party-কে হারানোর লক্ষ্যেই দল গড়েছি। তাই বিজেপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই নেই।”

তবে বাম-কংগ্রেস জোটের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে তিনি কৌশলী। হুমায়ুনের কথায়, “এখনই সব বলব না। ব্রিগেডের ময়দানেই উত্তর পাওয়া যাবে।” তিনি জানান, ১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে। সভার অনুমতি নিয়ে ডিফেন্স অফিসারের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং অনুমতি পেতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই আশাবাদী বিধায়ক।

ব্রিগেডে কত মানুষের জমায়েত হতে পারে—এই প্রশ্নে তাঁর দাবি, “টার্গেট ১০ লক্ষ। তবে কত মানুষ আসবেন, সেটা আমি গুনতে পারব না।” এই সভায় ‘বড় চমক’ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত ঘোষণাটি আসে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ প্রসঙ্গে। হুমায়ুন কবীর বলেন, “১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই মসজিদ তৈরির কাজ শুরু হবে।” বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দু’বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, তৃণমূলের তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও এসেছে। যুব তৃণমূলের শ্রীরামপুর–হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী বলেন, “ভোটের আগে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এই সব করা হচ্ছে। বিজেপি বা নওশাদ সিদ্দিকির হাত ধরুক—বিজেপি কোনও লাভ পাবে না।”

সব মিলিয়ে, ফুরফুরা শরিফ থেকে হুমায়ুন কবীরের ঘোষণায় স্পষ্ট—ব্রিগেডের সভা ও বাবরি মসজিদ নির্মাণকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করতে চাইছে তাঁর দল। আগামী সপ্তাহগুলোতে এই ঘোষণার প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর