বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ শুরু বুধবার থেকেই—সংখ্যালঘু আবেগ উসকে কৌশলী বার্তা হুমায়ুন কবীরের

বেলডাঙায় বুধবার থেকে বাবরি মসজিদ নির্মাণ শুরুর ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের। সংখ্যালঘু আবেগকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের আলোড়ন। জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছেন, আগামী বুধবার থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্মাণকাজ শুরু হবে। সোমবার সকালে সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি—যেখানে শান্তি, ন্যায় ও সংবিধানের প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরে স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

নির্মাণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংখ্যালঘু আবেগকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস মিলছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপকে হুমায়ুন শিবিরের কৌশলী বার্তা বলেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সমাজমাধ্যমে কী লিখলেন হুমায়ুন

নিজের পোস্টে হুমায়ুন কবীর লেখেন, “শান্তি, ন্যায় এবং বিশ্বাসের জয় হোক। আলহামদুলিল্লাহ! আগামী ১১ই ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে পবিত্র বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ। ভারতের সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়।” পোস্টের সঙ্গে প্রস্তাবিত মসজিদের নকশা-ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ভিত্তিপ্রস্তর থেকে বিতর্ক

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সেই কর্মসূচির নেতৃত্বেও ছিলেন হুমায়ুন কবীর। তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। হুমায়ুন-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই কোটি কোটি টাকা চাঁদা হিসেবে সংগ্রহ হয়েছে এবং সেই অর্থেই কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলছুট থেকে নতুন রাজনৈতিক রাস্তায়

গত ৪ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবীরকে ছয় বছরের জন্য নিলম্বিত করা হয়। তবে শাস্তির পরই তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে ২০২৬ বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে AIMIM-এর সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্তও জানান।

সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে নজর

হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠদের মতে, বাবরি মসজিদ ইস্যুতে রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজে গভীর আবেগ রয়েছে। সেই আবেগকে রাজনৈতিক পুঁজি করে জনতা উন্নয়ন পার্টি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস।

প্রশাসনের নজরদারি, তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

মসজিদ নির্মাণ ঘিরে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব কী দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর প্রশাসনের। তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। বহরমপুর–মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, “বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। মুর্শিদাবাদের মানুষ রাজনৈতিক ভাবে সচেতন—তাঁরা সচেতন হয়েই ভোট দেবেন।”

সব মিলিয়ে, বেলডাঙার এই নির্মাণকাজ রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে—সেই দিকেই এখন তাকিয়ে সব মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন