ইডির অভিযান ঘিরে উত্তাল বাংলার রাজনীতি। কবিতার পঙ্ক্তিতে শুরু করে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ—এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় কেন্দ্রের শাসকদলকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে ফের সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। I-Pac দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর অভিযানের প্রেক্ষিতে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মহামিছিলে অংশ নিয়ে এবং পরে লিখিত বার্তায় তিনি দাবি করেন—বিজেপি বাংলার শান্তি-সম্প্রীতি ভাঙছে এবং মৌলিক ভোটাধিকার খর্ব করছে; কিন্তু মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ, এই রাজ্যে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত।
বার্তার শুরুতেই রবীন্দ্র-অনুপ্রাণিত পঙ্ক্তি—“নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস”—ব্যবহার করে মমতা বিজেপির রাজনীতিকে ‘বিষাক্ত’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর অভিযোগ, অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক আচরণের মাধ্যমে বিজেপি বিভেদের রাজনীতি চালিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যে দল দুর্নীতিতে ডুবে আছে, তারাই নাকি সততা ও গণতন্ত্রের পাঠ দিচ্ছে—এ এক ‘পরিহাস’।


মমতার কটাক্ষ আরও তীব্র হয় সংবিধান ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে। তাঁর দাবি, বিজেপির নেতারা সংবিধানকে অবজ্ঞা করে, বাংলার মনীষীদের অপমান করে আবার ‘স্বচ্ছতা’র কথা বলেন। SIR-এর নামে প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট না বুঝেই বিজেপি ‘বাংলা দখল’-এর স্বপ্ন দেখছে।
I-Pac-এ ইডি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে রাজনৈতিক কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, “ওরা ইডি দিয়ে কণ্ঠরোধ করতে চায়, আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে ওদের বাংলা জয়ের স্বপ্ন রুখে দেব।” ভয় দেখিয়ে অশান্তি তৈরির অভিযোগও তোলেন তিনি; বিপরীতে নিজের রাজনীতিকে ‘মানবতার রাজনীতি’ বলে ব্যাখ্যা করেন।
মিছিলে মানুষের উপস্থিতিকে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সমর্থনের প্রতীক বলে উল্লেখ করে মমতা বলেন, এই লড়াই তাঁর একার নয়—মানুষই তাঁর শক্তি। অতীতে যাঁরা বিজেপির চক্রান্তে ক্ষতিগ্রস্ত বা নিগৃহীত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।


বার্তার শেষে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান—“মা-মাটি-মানুষের সৈনিকরা তৈরি হোন। লড়াই যেন জারি থাকে।” স্লোগানে স্লোগানে তিনি বার্তা শেষ করেন—“জয় বাংলা।”







