নজরবন্দি ব্যুরো: ‘ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন’ বিতর্কে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এথিক্স কমিটির সুপারিশকে মান্যতা দিয়ে এবং সংসদে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। শুক্রবার সংসদে মহুয়ার হয়ে সওয়াল করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। মহুয়ার বহিষ্কারকে অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। মহুয়া ইস্যুতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তাঁর মুখে ইন্ডিয়া জোটের প্রশংসাও শোনা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: বিজেপির প্রতিহিংসার শিকার মহুয়া, সর্বোতভাবে পাশে থাকার বার্তা মমতার
লোকসভার এথিক্স কমিটির প্রধান তথা বিজেপি সাংসদ বিজয় সোনকার শুক্রবার দুপুর ১২ টায় কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ৪৯৫ পাতার রিপোর্ট পেশ করেন। এদিন তৃণমূলের দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই রিপোর্টকে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেন। মহুয়ার পাশে দাঁড়ান কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীও। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই সাংবাদিকদের সামনে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিজেপি ভোটে পরাজিত করতে না পেরে ৪৯৫ পাতার রিপোর্ট পাঠিয়ে আধ ঘণ্টার মধ্যে আলোচনা করে মহুয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, বারবার করে তাঁর দলের সাংসদ ও ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা রিপোর্ট পড়ার সুযোগ চেয়েছিল কিন্তু তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় ইন্ডিয়া জোট যেভাবে একত্রিত হয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মহুয়া ইস্যুতে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহুয়া মৈত্র বিচার পাননি। আমরা বিরোধীরা এক জোট হয়ে লড়াই করব।” আরেক তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অসাংবিধানিক উপায়ে মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংবিধান সংসদকে কাউকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা দেয়নি। দল স্ট্র্যাটেজি ঠিক করবে।’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী সংসদে দাঁড়িয়ে মহুয়া মৈত্রর পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কংগ্রেস সাংসদ জানান, ‘এটা একটা স্টিং অপারেশন। সমস্ত তথ্য সামনে ছিল। ফাঁসির আগেও আসামীকে তাঁর শেষ কথা বলতে দেওয়া হয়, কিন্তু এখানে একপক্ষ শুনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রত্যেকেই রাইট টু ডিফেন্স রয়েছে। মহুয়ার সম্পর্কে যিনি বলেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। মহুয়া মৈত্র যে ক্রস চেক করবেন, সেই সুযোগটাই দেওয়া হয়নি। তদন্তটাই হয়নি।’
সুদীপ-কল্যাণ থেকে অধীর-সুজন, মহুয়া ইস্যুতে একসুরে বিরোধীরা, ইন্ডিয়া জোটের প্রশংসায় Mamata Banerjee

বিজেপির বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম সহ ২৭ টি বিরোধী দল এই জোটের অংশ। কিন্তু জোট থাকলেও একাধিকবার তাদের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে তৃণমূলের আমন্ত্রণ নেই, এই খবর চাউর হতেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়। যদিও পরবর্তী কালে ‘ইন্ডিয়া’র কয়েকটি দলের নেতাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় গত ৬ ডিসেম্বরের বৈঠক বাতিল করা হয়।



