রাজ্যের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিধানসভায় সম্মুখসমরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একসময় তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন শুভেন্দু, তবে আজ তিনি মমতার অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই দুই হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীর মুখোমুখি হওয়ার মুহূর্তেই সৃষ্টি হল রাজনৈতিক উত্তাপ। (আরও পড়ুনঃ ২৬০০০ চাকরি বাতিল: শুনানি শেষ, রায় স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে, ১২% সুদ-সহ…)
বিধানসভায় ফের মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দুঃ সোমবার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের ভাষণের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয়। নির্ধারিত সময়েই বিধানসভায় পৌঁছে যান রাজ্যপাল। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিধানসভা কক্ষ থেকে বেরচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্যই পড়ুনঃ ‘সহজ পাঠ’ বদলে গেল ইংরেজি রোমান স্ক্রিপ্টে! রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা কি SMS ল্যাঙ্গুয়েজে মানায়?


ঠিক সেই সময় বিধানসভায় প্রবেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখোমুখি হয়েই মমতা শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেন, “যাবি না?”— অর্থাৎ তিনি রাজ্যপালকে স্বাগত জানাতে যাবেন কি না।
📌 শুভেন্দুর স্পষ্ট উত্তর, “আমি যাব না”।
📌 সেই সময় মমতার পাশে ছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেন, “এটা তো ওঁর (স্পিকারের) কাজ। প্রোটোকল তাই বলে।”
এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনেই রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন আরও একবার প্রকাশ পেল।


শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি: রাজ্যপাল পরিবর্তিত ভাষণ পড়েছেন! বাজেট অধিবেশনে শুভেন্দু অধিকারী আরও একবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ আনলেন।
📌 তিনি দাবি করেন, রাজ্য যে ভাষণ লিখে দিয়েছিল, তা রাজ্যপাল পড়েননি।
📌 তার বদলে রাজ্য নতুন করে ভাষণ লিখে দেয়, যা রাজ্যপাল পাঠ করেছেন।
📌 শুভেন্দুর মতে, প্রথম ভাষণে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সমালোচনা ছিল, তাই তা বদলে ফেলা হয়।
এটি প্রথমবার নয়, অতীতেও মমতা-শুভেন্দুর মধ্যে একাধিকবার বাকযুদ্ধ হয়েছেঃ
📌 ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে হারাতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই থেকেই তাঁদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়।
📌 বিধানসভায় একাধিকবার একে অপরকে আক্রমণ করেছেন দু’জন।
📌 কিছুদিন আগেও মমতার ঘরে গিয়ে শুভেন্দু কথা বলেছিলেন, তবে দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই বিধানসভায় নতুন করে মমতা-শুভেন্দুর রাজনৈতিক লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠল। শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যপালের ভাষণ বদলে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বাক্য বিনিময় রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।







