উত্তরবঙ্গকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে দেবার প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এর সঙ্গেই আবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের তিন জেলাকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। বিজেপির রাজ্য সভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ আবার কোচবিহারকে আলাদা রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি করেছেন। সব মিলিয়ে একাধিক বিজেপি নেতার এই ধরনের দাবিকে বাংলা ভাগের চক্রান্ত হিসাবেই দেখছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
সোমবার বিধানসভা অধিবেশনে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ বললেন, “ভোট মিটে গেলেই বিজেপি ভাগ করার কথা বলে। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আলোচনা হোক বিধানসভায়। ভোটাভুটি হোক। বিধানসভাকে এড়িয়ে বাংলা ভাগ করার কথা বলা যাবে না। আসুক বাংলা ভাগ করতে। দেখিয়ে দেব কী করে রুখতে হয়!” সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গ থেকে এত আসন পেল ওরা, তবু বাজেটে কিছু দিল না! এখন আবার বিভাজনের রাজনীতি করছে। আমরা ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ করেছি।”


আজ বিধানসভায় তিনি বলেন, “বাংলাকে ভাগ করা চক্রান্ত চলছে। কখনো সাংসদ কখনো মন্ত্রী কখনো বিধায়ক এই দাবি করছেন। তাঁদের গলায় নানা রকম প্রস্তাব উঠছে। আমি বলছি এই নিয়ে যা বলার বিধানসভায় এসে বলুন। এখানে আলোচনা হোক এবং ভোটাভুটি হোক। কোনও ভাবেই আমরা বাংলাকে ভাগ হতে দেব না। বিজেপির এই চক্রান্ত আমাদের রুখতেই হবে।” বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গের সমস্ত উন্নয়ন আমরা করেছি। আর ভোটের সময় বিজেপি খালি ভাগের রাজনীতি করে। গোর্খাল্যান্ড, কামতাপুরী! উত্তরবঙ্গ আলাদা এই দাবি শুধু ভোটের সময় এদের গলায় শোনা যায়।”
আসলে, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত বুধবার। যখন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি চিঠি দেন এবং দাবি করেন, উত্তরবঙ্গকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে দেবার। আসলে সুকান্তের মতে, উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দেয় না রাজ্য সরকার। সেখানের মানুষের যা দাবি তা পূরণ হয় না। রাজ্য যা দেয় তাতে চিঁড়ে ভেজে না। এবার উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সুকান্ত। যে কারণে তিনি চান আগামীও দিনে উত্তরবঙ্গ তাঁর মন্ত্রকের অন্তর্ভুক্ত হলে পাহাড়ের মানুষ আরও উপকৃত হবেন। এরপর থেকেই ফের একবার মাথাচাড়া দেয় বঙ্গভঙ্গ বিতর্ক।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



