নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াক আউট করলেন বৈঠক থেকে। অভিযোগ, তাঁকে পর্যাপ্ত সময় বলতে দেওয়া হয়নি। মমতার নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কট প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “অত্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্য। এটা করতেই উনি (পড়ুন মমতা) ওখানে গিয়েছিলেন। আসলে উনি এখনও বিরোধী নেত্রীই রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগদানকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়, কারণ, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট এই বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। তবুও, রাজ্যের স্বার্থে এই বৈঠকে অংশ নেন তৃণমূলনেত্রী। অভিযোগ, অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ২০ মিনিট করে বলতে দেওয়া হলেও মমতাকে মাত্র ৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।



মমতা কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হলে নাকি তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “আমাকে পাঁচ মিনিটও বলতে দেওয়া হয়নি। মাইক বন্ধ করে আমাকে অপমান করা হয়েছে। অন্যদের ২০ মিনিটের বেশি বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ছত্তিশগঢ়, অসম সবাইকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে আমি বৈঠক ছেড়ে চলে এসেছি। রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট একটি সরকার কেন্দ্রে চলছে।”
মমতার নীতি আয়োগ বয়কট প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপিওর মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “অত্যন্ত দুর্বল একটি চিত্রনাট্য। উনি (পড়ুন মমতা) বিরোধী রাজনৈতিক দলের একজন নেত্রীই হয়ে রইলেন। মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলেন না। আর এইসব দেখানোর জন্যই দিল্লিতে গিয়েছেন উনি। তবে, এতে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা তিনি তুলতে পারবেন না, এটা নিশ্চিত!” উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে নীতি আয়োগের বৈঠক আয়োজিত হয়।


অত্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্য, মমতার নীতি-বৈঠক বয়কট প্রসঙ্গে বিজেপির কটাক্ষ

মমতার নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগদানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চলছিলই। কারণ, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাত জন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাজেটে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বৈঠক বয়কট করেন। যদিও মমতা জানান, তাঁর এই বৈঠকে যোগদানের পরিকল্পনা বাজেটের আগে নেওয়া হয় এবং জোটের তরফেও আলোচনার মাধ্যমে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ জানান তিনি। অবশেষে মমতাও নীতি আয়োগ বয়কট করলেন। বাজেটে বঞ্চনার অভিযোগে তিনিও পাল্টা সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



