নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমার মত কাজ করা আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়, শুধু দুঃখ দেবেন না! আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রানিগঞ্জের পর আজ বনগাঁর গোপালনগরে জনসভা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মতুয়া ভোট ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিন মমতা বলেন, “৩০ বছর ধরে বড়মার চিকিৎসা আমি করিয়েছি। এটা আপনাদের বাড়ি। হরিচাদ গুরুচাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। মতুয়াদের উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কথা দিয়ে কথা রাখি।” পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এদিন মতুয়াদের সম্মানে ছুটি ঘোষণা করেন হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে।
আরও পড়ুনঃ শীত নেই তবে কুয়াশায় ঢেকেছে সর্বস্ব, ব্যাহত যানচলাচল


আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় যা যা হয়েছে তা আর কোথাও হয়নি। ফ্রি রেশন, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কন্যাশ্রী, যুবশ্রীর মতো প্রকল্পের পরও আপনারা একাধিক দাবি জানাচ্ছেন। আপনাদেরও বুঝতে হবে যে সরকারের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর্থিক ঘাটতি সত্ত্বেও বাংলায় যেভাবে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে, তাতে সকলের বোঝা উচিত যে সরকারের কী পরিস্থিতি। আমার পক্ষে যতটা সম্ভব আমি করি। তাই কোনও আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। শুধু আমার দপ্তরে চিঠি পাঠান। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব।”
এদিন সিপিআইএম এবং বিজেপি কে একযোগে আক্রমণ শানান মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সিপিএমের হার্মাদ এখন বিজেপির ওস্তাদ! গায়ের জোরে ৩ টে কৃষি আইন করেছে। কৃষকরা যা তৈরি করে তা মজুতদারিরা কেড়ে নিয়ে যাবে। আমরা চাষিদের সাহায্য করতাম। কেন্দ্র তাদের আইনে কৃষকদের ফসল সব মজুত করবে। আগামি দিনে বিনা পয়সায় খাদ্য দেব, এটা আমার প্রতিশ্রুতি। জব্বর মিথ্যা কথা বলা সরকার বিজেপি সরকার। আর কৃষকবন্ধু সরকার তৃণমূল।”
এদিন মমতা বন্দোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “যেভাবে আমি কাজ করছি। সেভাবে আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ করে দেখাতে পারলে আমি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করব। শুধু একটাই আবেদন আমাকে দুঃখ দেবেন না।” পাশাপাশি জনগনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি, তাঁর কথায়, “কোনও ভুল করে থাকলে ক্ষমা করবেন, মনটা খারাপ হয়ে গেল।”


“এখন সিপিএমের হার্মাদরা বিজেপির সঙ্গ দিচ্ছে, সিপিএমের অত্যাচার দেখেননি? একটা লোকের কোনও উপকার করেছে? বিজেপির কাজই এটা, এখানে এসে বলবে বাংলাকে গুজরাত বানিয়ে দেবে। বিজেপি যতই বলুক, এনআরসি করতে দেব না, দেব না। এক বার যদি এনআরসি চালু হয়, তা হলে কিন্তু সব নথি চাইবে।”
কলকাতার পাশাপাশি ভোটের আগে নজরে এবার জেলার আসন। মঙ্গলবার রানিগঞ্জের পর আজ বনগাঁর গোপালনগরে জনসভা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কাছ থেকে মতুয়া অধ্যুসিত বনগাঁর এই আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। মতুয়া ভোটের একটা বড় অংশ হারিয়ে এই আসনটিতে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। ২১ এর বিধানসভা জিততে যেনতেন প্রকারে ফের শাসনে আসতে মরিয়া মমতা। তাই গোপালনগরে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহালরা।







