SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক আবহে নেতাজি ইন্ডোরে বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA ও BLA-2) সঙ্গে বৈঠকে একাধিক স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, বহিরাগত প্রসঙ্গ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা—সব মিলিয়ে সোমবারের এই সভা কার্যত ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণসাজের সূচনা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভোটার তালিকা নিয়ে সরাসরি বার্তা
বিহার থেকে আসা শ্রমজীবী ও পরিযায়ী ভোটারদের উদ্দেশে মমতার স্পষ্ট বার্তা, “আপনারা যদি বাংলায় থাকেন, এখানে কাজ করেন—তাহলে এখানেই ভোটার লিস্টে নাম তুলুন। বিহার থেকে নাম কাটুন। বাংলায় থাকলে কেউ আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ইচ্ছাকৃত ভাবে বহু বৈধ নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

‘নাম বাদ দিয়ে হারানো যাবে না’—হুঁশিয়ারি
নিজের ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “কোথাও ৭২ হাজার নাম বাদ, আমাদের ভবানীপুরে ৪৪ হাজার নাম বাদ। ভেবেছেন বাদ দিয়ে হারাবেন? তাতেও লড়ে নেব। হারবেন আপনারাই।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, একটি বৈধ নামও যদি বাদ যায়, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চলবে।
BLA ও কাউন্সিলরদের কড়া নির্দেশ
দলীয় নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে মমতার নির্দেশ,
-
বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে কার নাম বাদ পড়েছে
-
কেউ দায়িত্ব এড়ালে চলবে না
-
AI ব্যবহার করে কারচুপির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি
সবচেয়ে বেশি বার পড়া হয়েছে:
এক নজরে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটি: প্রকাশ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিশিয়াল ক্যালেন্ডার, ডাউনলোড করুন PDF
“এই লড়াইটা বুথ থেকেই শুরু করতে হবে,”—বার্তা তাঁর।

নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ—
-
SIR নিয়ে ২৪ বার নির্দেশিকা বদলানো হয়েছে
-
২০০২ ও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ে গরমিল
-
স্থানীয় ভাষা না জানা কেন্দ্রীয় কর্মীদের দিয়ে শুনানি করানো হচ্ছে
মমতার বক্তব্য, “বাংলা, মতুয়া, নেপালি, কামতাপুরী না জানলে শুনানি করবে কী করে? এটা ডেড ব্লান্ডার।”
বিজেপির দিকেও তোপ দেগে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশেই কাজ করছে।
২০২৬-এর সুর, ‘বাংলা জিতলে দিল্লি’
সভা জুড়ে বারবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মমতা। তাঁর দাবি, “বাংলা জিতলে দিল্লি কেড়ে নেব। তৃণমূলের জোড়াফুল আমাদের হৃদয়—সেই হৃদয় বিক্রি করতে দেব না।”
CAA, সাম্প্রদায়িকতা ও বহিরাগত ইস্যুতেও তিনি স্পষ্ট অবস্থান নেন— “বাংলায় কোনও CAA ক্যাম্প হবে না। কেউ বিজেপিকে ভোট দেবেন না।”
কমিশনে তৃণমূল প্রতিনিধি দল
সভা থেকেই জানানো হয়, সোমবার বিকেলে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, পুলক রায়, পার্থ ভৌমিক ও বাপি হালদার নির্বাচন কমিশনে যাবেন এবং SIR সংক্রান্ত আপত্তি তুলে ধরবেন।
‘জয় বাংলা’ স্লোগানে সভার সমাপ্তি
দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মধ্যে দিয়ে সভা শেষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট করে দেন—ভোটার তালিকা, অধিকার ও সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূল এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না।









