বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব এবার আইনি জটিলতায় জেলবন্দি। চেক বাউন্স মামলায় আদালতের নির্দেশ মেনে দিল্লির তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন অভিনেতা। ফলে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি চাপ আরও বাড়ল।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল যাদব। এরপর নিয়ম অনুযায়ী যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বুধবার দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতে অভিনেতার আইনজীবী জানান, তিনি ৫০ লক্ষ টাকা জোগাড় করেছেন এবং বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় চান। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কেউ নির্দিষ্ট কোনও পেশা বা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত বলেই তাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যায় না। সহানুভূতি দেখানো যেতে পারে, কিন্তু বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।
এই মামলার সূত্রপাত এম/এস মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের অভিযোগ থেকে। সংস্থার দাবি, রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রীর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স হয় এবং প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
২০১৮ সালে দিল্লির এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চেক বাউন্স মামলায় যাদব দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করে অভিনেতাকে ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালে সেশন কোর্টেও সেই রায় বহাল থাকে।
পরে দিল্লি হাই কোর্টে ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন তাঁরা। ২০২৪ সালের জুনে হাই কোর্ট সাময়িক ভাবে সাজা স্থগিত রেখে অভিযোগকারীর সঙ্গে মীমাংসার পরামর্শ দেয়। তবে আদালতের মতে, একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ২ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজপাল যাদব বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেতা। ‘হেরা ফেরি’, ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘ওয়েলকাম’ ও ‘ভাগম ভাগ’-এর মতো ছবিতে তাঁর কমেডি অভিনয় দর্শকের মন জয় করেছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে হাস্যরসের পাশাপাশি সংবেদনশীল চরিত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তবে আইনি জটিলতার কারণে আপাতত কঠিন সময়ের মুখে অভিনেতা।




