বিশ্ববাজারে প্রভাব বাড়াতে একের পর এক কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার পর এবং আমেরিকার তরফে নতুন চুক্তির ইঙ্গিত মিলতেই এবার নজর পশ্চিম এশিয়ায়। উপসাগরীয় ছ’টি দেশের জোট ‘গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি)-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি, খাদ্যশস্য ও শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রে ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত বৃহস্পতিবার জিসিসি-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানান, হাজার হাজার বছর ধরে ভারতের সঙ্গে এই অঞ্চলগুলির বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
মন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম সারির দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত। অন্যদিকে, জিসিসি-ভুক্ত দেশগুলি মূলত তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য পরিচিত। ফলে এই চুক্তি কার্যকর হলে দু’পক্ষই পারস্পরিকভাবে লাভবান হবে।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রসংঘের উপদেষ্টা জেফ্রি স্যাক্সও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন। তাঁর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের জন্য একটি বড় বাজার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গেও বাণিজ্য বাড়ানো ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে শুধু আমেরিকার বাজারের উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ, আমেরিকা এবং এবার উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির উদ্যোগ ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্য কৌশলেরই অংশ, যার লক্ষ্য বহুমুখী বাজার তৈরি করা এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।



