শনিবার সকালেই থমকে যেতে পারে অ্যাপ-নির্ভর যাতায়াত পরিষেবা। দেশজুড়ে ওলা, উবর ও র্যাপিডো চালকদের ডাকা ‘অল ইন্ডিয়া ব্রেকডাউন’-এ হাজার হাজার চালক অন্তত ছয় ঘণ্টা লগ-অফ থাকার পরিকল্পনা করেছেন। ফলে ক্যাব, অটো ও বাইক ট্যাক্সির পরিষেবা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী ও জরুরি যাতায়াতের ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, তেলঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। চালকদের অভিযোগ, ভাড়ার অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘক্ষণ কাজের চাপ তাদের আর্থিক অবস্থাকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে।


ইউনিয়নগুলোর দাবি, অ্যাপ-ক্যাব সংস্থাগুলি খেয়ালখুশি মতো ভাড়া নির্ধারণ করছে। ২০২৫ সালের মোটর ভেহিকেল অ্যাগ্রিগেটর গাইডলাইনস মেনে ভাড়া না দেওয়ায় চালকদের আয় কমছে। ফলে বেশি সময় রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে, আর আয়ের বড় অংশ নির্ভর করছে ইনসেনটিভের ওপর। কিন্তু সংস্থাগুলি প্রায়ই সেই ইনসেনটিভ কমিয়ে দিচ্ছে বা বন্ধ করে দিচ্ছে।
চালকদের আরও অভিযোগ, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও স্বচ্ছতা নেই। তাই নির্দিষ্ট ন্যূনতম ভাড়া বা বেস ফেয়ার নির্ধারণের দাবি তুলেছেন তাঁরা। এই ভাড়া নির্ধারণের আগে চালক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার দাবিও জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি, ব্যক্তিগত নম্বর প্লেটের গাড়িকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের গাড়ি রাইড শেয়ারিংয়ে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়ে যাচ্ছে এবং নিয়ম মেনে চলা চালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


এছাড়া ২০২৫ সালের নির্দেশিকার ১৭.৩ ধারা বাতিলের দাবিও তুলেছেন চালকেরা। এই ধারার সুযোগ নিয়ে বহু সংস্থা বেস ফেয়ারের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম ভাড়ায় রাইড বুক করছে বলে অভিযোগ, যার ফলে চালকদের আয় কমে যাচ্ছে।
শনিবার অন্তত ছয় ঘণ্টা এই কর্মসূচি চলবে বলে জানা গিয়েছে, যদিও বিভিন্ন শহরে সময়ের পার্থক্য থাকতে পারে। ব্যস্ত সময়ে অ্যাপ-ক্যাবের উপর নির্ভরশীল যাত্রীদের আগাম বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







