‘তৃণমূলে লুটেপুটে খেল, ইডি-র ভয়ে বিজেপি হয়ে গেল’! ভবানীপুরে নাম না করে শুভেন্দুকে খোঁচা মমতার

ভবানীপুরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ বিজেপির বিরুদ্ধে, নাম না করে শুভেন্দুকে নিশানা, ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্কবার্তা ও গণতন্ত্র রক্ষার ডাক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগেই ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে আক্রমণের ঝড় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নিশানায় বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা—আর সেখানেই উঠে এল ‘লুট করে বিজেপি’ তত্ত্ব। একইসঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—ইভিএমে দু’নম্বরে থাকা প্রতীকে ভোট দিন।

কলিন লেনের সভা থেকে মমতা জানান, তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং মানুষের উপর কোনও আঘাত আসতে দেবেন না। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে—কোথাও গ্রেফতারি, কোথাও আতঙ্ক তৈরি করে ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকতে বলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আবেদন জানান।

বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে মমতা বলেন, দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যর্থতা ঢাকতেই বাংলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার ব্যবহার, বাহিনী মোতায়েন—সবকিছুকেই তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও দ্বিচারিতা চলছে—একদিকে সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অন্যদিকে সেই বিষয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার।

নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর দিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, একসময় অন্য দলে থেকে সুযোগ নিয়েছেন, পরে পরিস্থিতি বদলাতেই শিবির পাল্টেছেন। তাঁর কথায়, “আগে সব ভোগ করে এখন অন্য রং ধরেছেন”—এই মন্তব্যে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়ে।

ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোটের দিন যেন কেউ প্ররোচনায় না পা দেন, ইভিএম বা ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ হলে অভিযোগ জানান। বিশেষ করে মহিলাদের সামনে থেকে ভোট প্রক্রিয়া নজরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিজেপির নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক আচরণ নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে মানুষ এনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি—যেমন অর্থনৈতিক সুবিধা বা উন্নয়ন—বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

সভায় মমতা নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও বলেন—সাতবারের সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, এমন নির্বাচন আগে দেখেননি। তাঁর অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে একতরফা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হচ্ছে।

শেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে মমতা দাবি করেন, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আসল বার্তা দিয়েছে। তাঁর মতে, এই ভোট কোনও দলের জন্য নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই—এবং ফলাফল তার প্রতিফলনই হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত