নজরবন্দি ব্যুরোঃ এত CRPF নিয়ে ঘুরেও আক্রান্ত কিভাবে? প্রচার না পেয়েই নাটক নাড্ডার। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনার দায় বিজেপি-র ঘাড়েই চাপালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কলকাতায় গান্ধী মুর্তির পাদদেশে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তথা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে তৃণমূলের খেতমজুর সংগঠনের সভা ছিল। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও বিজেপিকে ব্যাপক আক্রমণ করেন।
আরও পড়ুনঃ ইন্দিরা কে হারিয়ে ছিলাম, ইনি আর কে? মমতার ভাষা বাংলার সংস্কৃতি নয়! তোপ নাড্ডার


এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় নাড্ডা বিজেপির কর্মসূচিতে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন কিন্তু প্রচার পাননি, কেউ সাড়াও দেয়নি তাঁর প্রচারে। সে কারনেই আজ গুন্ডাদের নিয়ে ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে গিয়েছিলেন নাড্ডা। সেখানেই পাথর ছোঁড়ার নাটক করে এখন তৃণমূলের নামে দোষ দিচ্ছেন। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে কনভয়ে হামলার জন্য নাড্ডাই দায়ি বলে বুঝিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
উল্লেখ্য, গতকাল নির্বাচনী দামামা বাজিয়ে দু’দিনের সফরে বাংলায় এসেছেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। বুধবার তিনি প্রচার করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের একাধিক যায়গায়। বিজেপি-র বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই প্রচার কৌশলের নাম ‘গৃহ সম্পর্ক অভিযান’. ।এই অভিযানে নেমেই নাড্ডা ভবানীপুর এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে বিজেপির ‘আর নয় অন্যায়’-এর প্রচারপত্র বিলি করেছেন। এদিন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বক্তব্যে সেই প্রসঙ্গই উঠে আসে।
এদিকে ডায়মন্ড হারবারে যাওয়ার পথে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনাকে অস্বীকার করে টুইট করেছে রাজ্য পুলিশ। এবিষয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে ওই কনভয় পৌঁছেছে ডায়মন্ড হারবারে। ঘটনার পরেই বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যপুলিশের তরফে টুইট করে বলা হয়,”বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি শ্রী জেপি নড্ডা নিরাপদেই ডায়মন্ড হারবারের সভাস্থলে পৌঁছেছেন। তাঁর কনভয়ে কোনও হামলা হয়নি। ফলতা থানার অন্তর্গত দেবীপুরে রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু দুষ্কৃতী হঠাৎই তাঁর কনভয়ের অনেক পিছনে থাকা কয়েকটি গাড়িতে পাথর ছোড়ে। সবাই নিরাপদে রয়েছেন, পরিস্থিতিও শান্ত। ঘটনাটির তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”


উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে যাওয়ার সময়, শিরাকোল এলাকায় জেপি নাড্ডার কনভয়ের উপর হামলা হয়। দুস্কৃতীদের ছোঁড়া ইটের ঘায়ে গাড়ির কাঁচ ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব আহত হয়েছেন। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমের গাড়িও কাঁচও ভাঙা হয়।
এত CRPF নিয়ে ঘুরেও আক্রান্ত কিভাবে? এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “তোমরা প্ল্যানিং করে করোনি তো! আমি পুলিশকে বলব তদন্ত করে বের করতে সব মিথ্যে মানা যায় না। আর মানা যাবে না।” তাঁর কথায়, “এত সব সিআরপিএফ নিয়ে ঘুরছো, সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে ঘুরছো তাহলে কী করে গাড়িতে হাত দিল? এক এক জন গুন্ডাকে পর্যন্ত আধাসেনা জওয়ান দিয়ে রেখেছো।” তিনি বিজেপি-কে আক্রমণ করে বলেন, “যখন কিছু না থাকে তখন ভায়োলেন্স করে বিজেপি। তার পর বলে, “এই দেখো আমাকে মেরেছে।” একটা কনভয়ে ৫০টা গাড়ি থাকবে কেন? কেন দাঁড়িয়েছিলে রাস্তায়, কে একটা ইট মারবে আর ভিডিও তুলবে বলে? আগে থেকে গাড়ি থেকে ভিডিও করছিলে, তোমরা কি জানতে ইট মারবে!







