ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বাঁকুড়ার প্রাক্নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ–কে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে SIR–এর কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ—একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি সরাসরি শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।
মমতার অভিযোগ, ভোট এলেই পরিকল্পিতভাবে বাংলায় SIR চালু করে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সভা থেকে তিনি বলেন, “ভোট আসতেই দুর্যোধন-দুঃশাসনরা বাংলায় হাজির। নাম কাটার জন্যই এই হুড়মুড় করে SIR।” তাঁর দাবি, শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্য উপেক্ষা করেই মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে অমিত শাহের বক্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে মমতা সরাসরি পহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর প্রশ্ন, “অনুপ্রবেশকারী কি শুধু বাংলাতেই আছে? কাশ্মীরে নেই? তা হলে পহেলগামে হামলা কারা করাল?” একই সঙ্গে দিল্লির বিস্ফোরণ নিয়েও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
SIR শুনানিকে ঘিরে মানুষের হয়রানির একাধিক উদাহরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নবতিপর বৃদ্ধদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। পুরুলিয়ার পাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৯৫ বছর, ৮২ বছরের মানুষকে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। এক দিন হাজিরা দিতে না পারলেই নাম বাদ। এত মানুষের মৃত্যুর দায় নেবে কে?”
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন তিনি। মমতার দাবি, কমিশন বিজেপির ‘ইশারায়’ কাজ করছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
SIR শুনানিতে বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপির লোক নেই বলেই BLA-দের ঢুকতে দিচ্ছে না। নিজেদের লোক দিয়ে শুনানি চালাচ্ছে।” কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
নাম বাদ পড়া ভোটারদের উদ্দেশে বারবার সতর্কবার্তা দেন মমতা। তাঁর পরামর্শ, অবশ্যই ফর্ম ৭ ও ৮ পূরণ করতে হবে। ঠিকানা পরিবর্তন, বানানের সামান্য ভুল বা বিবাহের পর ঠিকানা বদলের মতো কারণ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ড্রাফট ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে—এর কোনও নিশ্চয়তা নেই বলেও সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “অনেক বদমাইশি চলছে। চোখ-কান খোলা রাখুন।” একই সঙ্গে নতুন ভোটারদেরও নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সবশেষে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “একটাও নাম বাদ গেলে আন্দোলন হবে বাংলায়ও, দিল্লিতেও।”



