পাঁচ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার কোচবিহারের কর্মসূচি সেরে মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরে (North Dinajpur) এসেছেন তিনি। প্রথমে চোপড়া পরে ইসলামপুরে জনসংযোগ যাত্রা ও সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এখন তৃণমূলনেত্রী উপস্থিত রায়গঞ্জে। রায়গঞ্জের সভা থেকে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, মানুষের সাধারণ অধিকার কেড়ে নিচ্ছে মোদী সরকার।
আরও পড়ুন: দিব্যাঙ্গদের ট্রাই সাইকেল ও মহিলাদের সেলাই মেশিন বিতরণ, বালুরঘাটে সামাজিক উদ্যোগ সুকান্তর


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেছেন, “কেউ সাদা পরে, তো কেউ লাল পরে, কেউ হলুদ পরে, তো কেউ বেগুনি পরে। এটা মানুষের অধিকারের মধ্যে পড়ে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কী করছে? ডিম খাওয়া বন্ধ, মাছ খাওয়া বন্ধ, মাংস খাওয়া বন্ধ! মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে সব আমিষ দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষমতায় এসেই এই কাজ শুরু করে দিয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, “মানুষ কী খাবে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি মাছভাত খাবেন না দুধভাত খাবেন এটা আপনার অধিকার। আপনি সালোয়ার পরবেন না শাড়ি পরবেন না প্যান্টজামা পরবেন না মাথায় ওড়না দেবেন, এটাও আপনাদের নিজস্ব অধিকার। এই অধিকার কেউ কখনও কাড়তে পারে না।”
সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রায়গঞ্জের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “রায়গঞ্জে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে, ইসলামপুর নতুন পুলিশ জেলা হয়েছে, কালিয়াগঞ্জে মেগা কার্পেট ক্লাস্টার হয়েছে। ৮ হাজার কার্পেট শিল্পী কাজ করেন। জলস্বপ্ন প্রকল্পে ৫ লাখ ৮১ হাজার মানুষের কাছে জল পৌঁছবে বাড়ি বাড়ি। তার মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার মানুষের বাড়িতে জল ইতিমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছি। বাকিটা আগামী ৭-৮ মাসের মধ্যে সকলের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে।”



মাছ মাংসের দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি সরকার, রায়গঞ্জে মানুষের অধিকার নিয়ে সরব মমতা
প্রসঙ্গত, উত্তর দিনাজপুরে (North Dinajpur) মঙ্গলবার তিনটি মিছিল করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চোপড়ায় জনসংযোগ যাত্রা শেষ করে ইসলামপুরে গেলেন তিনি। সেখান থেকে রায়গঞ্জে এলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইসলামপুর ও রায়গঞ্জেও এক-দেড় কিলোমিটার পদযাত্রা করলেন। রায়গঞ্জের সভা শেষ করে সোজা বালুরঘাটে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। রাতে বালুরঘাটেই তাঁর থাকার কথা।

সোমবার কোচবিহারে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে ২১০টি রাজবংশী ভাষার স্কুলকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের মানুষের এই দাবি ছিল। সেই দাবি পূরণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বুঝিয়ে দিলেন, উত্তরবঙ্গকে কোনও ভাবেই বঞ্চিত করতে চায় না রাজ্য সরকার।
বরাবরই কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ ও বালুরঘাট জেলার রাজবংশী ভোট নিয়ন্ত্রণ করে এই জেলার ফলাফলকে। পরিসংখ্যার বিচারে, কোচবিহারে ৬২ শতাংশ, জলপাইগুড়িতে ৫০ শতাংশ, আলিপুরদুয়ারে ৩৮ শতাংশ, রায়গঞ্জে ৫২ শতাংশ এবং বালুরঘাটে ৪৮ শতাংশ রাজবংশী ভোট রয়েছে। সেই ভোটকে ঘাসফুলের ঝুলিতে টানতে বদ্ধপরিকর তৃণমূলনেত্রী।







