মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো, অন্যজন সেকেন্ড ইন কমান্ড। দু’জনকে সামনে রেখেই আগামী দিনে এগিয়ে যেতে চায় রাজ্যের শাসক দল। দলের অন্যান্য নেতা থেকে কর্মী প্রত্যেকেই তাই চান। মমতা এবং অভিষেক, এটা তৃণমূল কংগ্রেসের একটা আবেগ। আলাদা আলাদা করে অনেকে ভাবতেই পারেন না। অথচ দলের সর্বোচ্চ স্তরে বিগত কয়েক মাস ধরে একটা দূরত্বের কথা শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে সেই দূরত্ব মিটিয়ে ফেলে স্বমহিমায় ফিরতে চলেছেন মমতা-অভিষেক জুটি। আর এই সেতুবন্ধনে সাহায্য করলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী।
বিষয়টা হল, সরকারি কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রায় বছর খানেক আগে থেকেই নানান প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি কাজে নজরদারির অভাব ও আমলাতান্ত্রিক দুর্বলতা নিয়ে ক্ষোভ ছিল তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের মনে। সরকার বহু পরিকল্পনা হাতে নিলেও তা রূপায়নে গাফিলতি থেকে যাচ্ছে বলে দলের অন্তরে সরব হন অভিষেক। মন্ত্রী ও আমলাদের নজরদারির অভাবে মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছয় না বলেও মতপ্রকাশ করেন তিনি। দলের নিয়মিত কাজকর্ম থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন অভিষেক। তাতে শাসক শিবিরের শীর্ষস্তরে একটা অস্বস্তি তৈরি হয়, নেতিবাচক বার্তা যায় তৃণমূল স্তরেও।
শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠক করলেন সুব্রত বক্সী। সূত্রের খবর, অভিষেক যে বিষয়গুলি নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই বিষয়গুলি মেনে নিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি। তবে সমাধানের রাস্তা পাওয়া গিয়েছে। সরকার এবং দল, দু’টি ক্ষেত্রেই মমতা এবং অভিষেকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে তবেই এগোতে চায় তৃণমূল। আপাতত সামনে দুর্গাপুজো। উৎসবের মরশুম মিটলে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। মমতা এবং অভিষেক দু’জনেই থাকবেন। কারা, কীভাবে দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন তা স্থির করা হবে সেই বৈঠকে।
আগামী দু’বছর পর বিধানসভা নির্বাচন। লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যের পর শুদ্ধিকরণ অভিযানের পথে হাঁটতে চেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু তার মধ্যেই আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের মতো মারাত্মক অপরাধ ঘটে যায়। এই ঘটনায় প্রথম থেকেই ব্যাকফুটে রাজ্য সরকার। অভিষেক বেশ কয়েকবার মুখ খুললেও বেশিরভাগ সময়ই নীরব থেকেছেন। আগামী নির্বাচনের আগে সংগঠনে রদবদল প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া কীভাবে, কখন শুরু হবে তা নিয়েও সুব্রতর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে অভিষেকের।
অভিষেক চান, যে কোনো শাখায় খামতি ধরা পড়লে তা দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করার পাশাপাশি ভুলত্রুটি হলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে চান তৃণমূল সাংসদ। অভিষেকের সমস্ত সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়েছেন বক্সী। তিনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আলাদা করে এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলা হবে। উদ্দেশ্য একটাই, দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
তবে সূত্রের খবর, চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য ফের এক মাসের জন্য দেশের বাইরে যেতে পারেন অভিষেক। সেক্ষেত্রে তিনি ফিরে এলেই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে দলের দুই শীর্ষকর্তার মধ্যে। অর্থাৎ, বলাই যেতে পারে তৃণমূল শুরু হতে চলেছে একটি নতুন অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের প্রচ্ছদে থাকবে মমতা ও অভিষেক, দু’জনেরই ছবি।



