রবিবার মালদ্বীপের রাজধানী ম্যালেতে ভারত-মালদ্বীপ উচ্চস্তরের কোর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। বিদেশ মন্ত্রক সুত্রে খবর, বৈঠকে দুপক্ষই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের কাজে দ্রুততা আনা, কীভাবে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানো যায়, সেই নিয়ে আলোচনা করে দুই পক্ষ। এছাড়া, এদিনের বৈঠকে যে ভারতীয় বিমানগুলি মালদ্বীপের জনগণকে মানবিক ও চিকিৎসাগত পরিষেবা দেয় সেগুলির চলাচল কীভাবে অব্যাহত রাখা যায় সেই বিষয়েও আলোচনা হয়। এরপর এই গোষ্ঠীর পরবর্তী বৈঠক হবে ভারতে।



আরও পড়ুন : সন্ত্রাসবাদ দমনে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সর্বশক্তি’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতবছর দুবাইয়ে জলবায়ু বৈঠক চলাকালীন, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই কোর কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মুইজ্জু বরাবরই চিনেপন্থী এবং ভারত বিরোধী বলে পরিচিত। মালদ্বীপের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম সোলিহর নীতি ছিল ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’। আর মুইজ্জু ক্ষমতায় এসেছেন ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি শুরু করার প্রস্তাব দিয়ে। ক্ষমতায় আসার পরেই মুইজ্জু প্রথম চিন সফরে গেছেন।



যেখানে সাধারণত মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতিরা তাদের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ভারতে করে। মুইজ্জু এই প্রথা ভেঙে দিয়েছে। তবে এ বার শুধু কূটনৈতিক স্তরে আর্জি জানানো নয় রীতিমতো দু’মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। গত শনিবার কোনও দেশের নাম না করে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “আমরা ছোট দেশ হতে পারি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি আমাদের ধমক দেওয়ার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছেন। আমরা কারও বাড়ির উঠোনে অবস্থিত নই। আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। তাই, মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে না গলানোর অধিকার কোনও দেশের নেই।”।

ভারতের থেকে মানবিক ও চিকিৎসা পরিষেবা চাই, সেনা সরানোর বিতর্কের মধ্যে আলোচনায় মালদ্বীপ
সুত্রের খবর, এই মুহূর্তে মালদ্বীপে ৮৮ ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সেনাকে মালদ্বীপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকালেই ভারত-মালদ্বীপ চাপানউতোর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, সব দেশ, সব সময় ভারতের সঙ্গে একমত হবে, ভারতকে সমর্থন করবে, এই ‘গ্যারান্টি’ দেওয়া সম্ভব নয়। অন্য দিকে, চিনঘেঁষা এবং ভারত-বিরোধী অবস্থান নেওয়ায় বিরোধীদের তোপের মুখে পড়া মুইজ্জুর দল মালদ্বীপ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি রাজধানী ম্যালের মেয়র নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এই আবহেই বিতর্কের জল কত দূর গড়ায়, সে দিকে নজর থাকবে।







