ধর্ষণের পর গলার নলি কেটে খুন! বিহারে মর্মান্তিক পরিণতি মালদহের মহিলার, আক্রান্ত আরও এক

বাংলা-বিহার সীমান্তের গোবিন্দপুরে ঘাস কাটতে যাওয়া মালদহের দুই মহিলার উপর হামলার অভিযোগ। এক মহিলাকে ধর্ষণ করে গলার নলি কেটে খুন, বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর জখম সঙ্গী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা-বিহার সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হলেন মালদহের দুই মহিলা। বিহারের আমেদাবাদ থানার গোবিন্দপুর এলাকায় এক মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ এবং পরে গলার নলি কেটে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গিয়ে হাঁসুয়ার কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁর সঙ্গী আর এক মহিলা। রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওরকমে মালদহে ফিরে আসার পর তাঁকে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলা-বিহার সীমান্ত লাগোয়া গোবিন্দপুর এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের দুই মহিলা। সেই সময় আচমকাই এক যুবক তাঁদের পথ আটকায় বলে অভিযোগ। এক মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে অন্য মহিলা বাধা দেন।

অভিযোগ, বাধা দেওয়ার পরই ওই মহিলার উপর হাঁসুয়া নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে তাঁর। রক্তাক্ত অবস্থাতেও কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে মালদহের দিকে ফিরে আসেন তিনি।

এদিকে, অন্য মহিলাকে জোর করে কাছের কাশবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার নলি কেটে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

গুরুতর আহত মহিলা গ্রামে ফিরে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুরো ঘটনা জানান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখান থেকে তাঁরা এক মহিলার দেহ দেখতে পান। এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

ঘটনার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ এবং বিহারের আমেদাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সীমান্তবর্তী এলাকার ঘটনা হওয়ায় দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় করে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

আহত মহিলার শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তাঁর কাছ থেকে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত যুবক কী ভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিল এবং হামলার পর কোন পথে পালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক ভাবে এক জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠলেও এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, নাকি আচমকাই ওই দুই মহিলাকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার পিছনে বিহারের দুষ্কৃতীদের যোগ থাকতে পারে বলে স্থানীয় স্তরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ। অভিযুক্তের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়েছে।

বাংলা-বিহার সীমান্তবর্তী এলাকায় দিনের বেলায় ঘাস কাটতে গিয়ে দুই মহিলার উপর এমন হামলার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এক জনের মৃত্যু এবং অন্য জনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আনাই তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন