নজরবন্দি ব্যুরো: কেন্দ্রের পেশ করা জাতীয় শিক্ষানীতিতে দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা বা মাধ্যমিক তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই এই জাতীয় শিক্ষানীতি মানতে নারাজ ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আজ থেকেই বলবৎ হল নতুন শিক্ষানীতি। সেখানে মাধ্যমিক পরীক্ষা রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথার্থ বলেই মনে করছেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন: জি-২০ সম্মেলন বলছে মোদী এখন BHARAT-এর প্রধানমন্ত্রী, দেশের নাম কি সত্যিই বদলে গেল?


জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পূর্ণ মানেনি বাংলা। তারা অনড় নিজেদের শিক্ষানীতিতেই। বরং আজ থেকেই বলবৎ হবে ১৬৩ পাতার নতুন রাজ্য শিক্ষানীতি। গ্যাজেট নোটিফিকেশন করে আজ থেকেই রাজ্য শিক্ষানীতি বলবৎ শুরু করে দিচ্ছে শিক্ষা দফতর। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই জানিয়েছিলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে ‘বেস্ট প্র্যাকটিসেস’ বেছে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই রাজ্য শিক্ষানীতি।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি এনিয়ে জানিয়েছেন, স্কুলজীবনের শেষ পরীক্ষা উচ্চমাধ্যমিক। এরপর উচ্চশিক্ষার দিকে অগ্রসর হয় পড়ুয়ারা। আর এক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রেও উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট কাজে লাগে। মাধ্যমিক পরীক্ষা যদি উঠে যায়, তাহলে পড়ুয়াদের স্কুল জীবনের একমাত্র বড় পরীক্ষা হবে উচ্চমাধ্যমিক। সেক্ষেত্রে স্কুল জীবনের শেষ বড় পরীক্ষা দেওয়ার আগে পড়ুয়াদের নিজেদের মূল্যায়ন করার কোনও সুযোগ থাকবে না।



পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষানীতিতে এক বছরের প্রি-প্রাইমারি ক্লাস এবং চার বছরের প্রাথমিকের ক্লাসের কথা বলা হয়েছে। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী এবং নবম-দশম শ্রেণী শেষে মাধ্যমিক পরীক্ষা। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শেষে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। তবে উচ্চমাধ্যমিক বা দ্বাদশ শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষা হবে সেমিস্টারের ধাঁচে। প্রত্যেক পড়ুয়ার তিন বছর বয়স থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক রেকর্ড জমা থাকবে ক্লাউডে।
মাধ্যমিক হবেই, জাতীয় শিক্ষানীতিতে ‘না’ বাংলার, আজ থেকে বলবৎ রাজ্যের নয়া শিক্ষানীতি

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর স্কুল জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে পড়ুয়ারা কলেজ জীবনে প্রবেশ করে। সেক্ষেত্রে পড়ুয়াদের সুবিধার্ধে স্কুলগুলির সঙ্গে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সমন্বয় তৈরির কথাও বলা হয়েছে রাজ্য শিক্ষানীতিতে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীদের কাছ থেকে অনুদানের নীতি নির্ধারণ করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।







