তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এনডিএ-তে যোগদানের উদ্যোগ নেওয়া সাংসদদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে সরাসরি নিশানা করলেন মহুয়া। তাঁর মন্তব্য, “ভারতের জার্সিতে খেলেছেন, অথচ এতটুকু সাহস দেখাতে পারলেন না! লজ্জা হওয়া উচিত।”
সোমবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সূত্রের খবর, তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়েছেন।


এই তালিকায় একাধিক পরিচিত মুখের পাশাপাশি রয়েছেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। এছাড়াও নাম রয়েছে কাকলি ঘোষদস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, দেব, আবু তাহের, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন সাংসদের।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন মহুয়া মৈত্র। কোনও নির্দিষ্ট সাংসদের নাম না করেই তিনি লেখেন, “তৃণমূলের টিকিটে জিতে এখন এনডিএ-তে যেতে চাইছেন। যদি সত্যিই বিজেপির আদর্শে বিশ্বাস থাকে, তাহলে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিন এবং বিজেপির টিকিটে আবার ভোটে দাঁড়ান। তখন দেখা যাবে জনসমর্থন কতটা রয়েছে।”
তবে ইউসুফ পাঠানের ক্ষেত্রে তিনি আরও সরাসরি আক্রমণ শানান। মহুয়ার দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকে দিল্লি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একজন জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারের কাছে প্রত্যাশিত নয়। তিনি লেখেন, “ভারতের হয়ে খেলেছেন, আমাদের জেলা আপনাকে বিপুল ভোটে জিতিয়েছে। অন্তত কিছুটা মেরুদণ্ড ও রাজনৈতিক সততা দেখানো উচিত ছিল।”


উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন ইউসুফ পাঠান। ক্রিকেট জীবন শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের একাংশকে চমকে দিয়ে তিনি কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর চৌধুরীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন।
তবে সাংসদ হওয়ার মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তাঁর নাম তৃণমূলের তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহুয়ার প্রকাশ্য আক্রমণ সেই সংঘাতকে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



