নজরবন্দি ব্যুরোঃ সাত বছরের খরা কাটিয়ে আই লীগে প্রত্যাবর্তন মহামেডানের ।বাংলার ফুটবলে ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের পরেই সবচেয়ে বড় নাম মহামেডান স্পোর্টিং। তবে কলকাতা ফুটবলের অন্যতম বড় এই ক্লাবকে দীর্ঘ ৭ বছর দেখা যায়নি দেশের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতা আই লিগে। সেই দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে অবশেষে আই লিগের মূলপর্বে দেখা যেতে চলেছে ময়দানের অন্যতম ঐতিহ্যশালী এই ক্লাবকে। ক্লাব সমর্থকদের জন্য যা বড় সুখবর।তবে যোগ্যতা অর্জন পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে আরাএফসি’র বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ের পর হেড কোচ ইয়ান ল’কে ছাঁটাই করা হয়।
আর পড়ুনঃজোর ধাক্কা নাইট রাইডার্সের, অধিনায়ক পদ থেকে সরলেন কার্তিক।
যে টুর্নামেন্টের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে আই লিগে যোগ্যতা অর্জনের প্রশ্ন সেই টুর্নামেন্টের মাঝখানে কোচ ছাঁটাই কোনওভাবে ফোকাস নষ্ট করবে না তো দলের ফুটবলারদের? শুক্রবার কল্যাণীতে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে নামার আগে এমনই সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল মহামেডান স্পোর্টিং সমর্থকদের মনে।
কিন্তু সমর্থকদের সমস্ত শঙ্কা দূরে সরিয়ে সাত বছর পর আই লিগের মূলপর্বে মহামেডান স্পোর্টিং। কল্যাণী স্টেডিয়ামের ভবানীপুর ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রত্যাশামতোই আই লিগে পৌঁছে গেল তারা। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল আইএসএলে যোগদান করায় আসন্ন আই লিগ মরশুমে কলকাতার একমাত্র এবং টুর্নামেন্টের একাদশতম দল হিসেবে আই লিগ খেলবে ব্ল্যাক প্যান্থাররা। কলকাতা প্রধানের হয়ে এদিন গোলদু’টি করেন ভ্যানলালবিয়া ছাংতে এবং গনি আহমেদ নিগম (অনুর্ধ্ব-২২)।
ম্যাচের শুরুতেই ছাংতের একটি দুরন্ত প্রয়াস রক্ষা করেন ভবানীপুর গোলরক্ষক শিলটন পাল। ২৬ মিনিটে ভবানীপুর স্ট্রাইকার ফিলিপ আদজার শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। এর ঠিক এক মিনিট বাদেই পড়শি ক্লাব ভবানীপুরের বিরুদ্ধে এদিন মহামেডানের প্রথম গোলটা দুরন্ত টিমগেমের ফসল। গোলের কারিগর অবশ্যই দলের ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগ স্ট্রাইকার উইলিস প্লাজা। বক্সের বাইরে থেকে প্লাজার সাজানো বলে শেখ ফৈয়াজের ব্যাকহিল ধরে গোল করে যান ছাংতে। এক্ষেত্রে ফৈয়াজের ফ্লিক ধরে শিলটনকে বোকা বানান তিনি।
প্রথমার্ধে ইতিবাচক ফুটবল খেলে এক গোলে এগিয়ে থেকেই লকাররুমে যায় সাদা-কালো শিবির। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভবানীপুর স্ট্রাইকার ফিলিপ আদজার একটি দুরন্ত চিপ অল্পের জন্য ক্রসবার উঁচিয়ে বাইরে চলে যায়। এদিন গোটা ম্যাচে মহামেডানের গোলপোস্টের নীচে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন প্রিয়ন্ত। একাধিক ক্ষেত্রে মহামেডানের ত্রাতা হিসেবে দেখা দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটে ইনসিওরেন্স গোলে তুলে নিতেই জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় মহামেডানের। এক্ষেত্রে শফিউল রহমানের ফ্রি-কিক থেকে বল চেস্ট ট্র্যাপ করে জালে পাঠিয়ে দেন গনি আহমেদ নিগম।
সাত বছরের খরা কাটিয়ে আই লীগে প্রত্যাবর্তন মহামেডানের ।গত দু’টি ম্যাচ জিতে এদিন কল্যাণীতে মুখোমুখি হয়েছিল ভবানীপুর এবং মহামেডান স্পোর্টিং। স্বাভাবিকভাবেই আজকের এই ভার্চুয়াল ফাইনালে যে জিতত তাঁর আই লিগে যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যেত। তাই ভবানীপুরকে হারিয়ে ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আই লিগে যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করল সাদা-কালো শিবির। ম্যাচ শেষে মহামেডান কোচ শাহিদ রমন বলেন, ‘এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি। আমরা জানতাম ভবানীপুর কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল খেলে। আমরা সেইমতোই স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছিলাম।’



