মহালয়ায় কী করবেন, কী করবেন না? তর্পণ না করলেও মেনে চলুন এই নিয়মগুলি

পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহালয়ার বিশেষ তাৎপর্য। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন তর্পণ, দানধ্যান, নিরামিষ আহার ও প্রার্থনার মতো কিছু নিয়ম পালন করেন বহু মানুষ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা নিয়ে আসে মহালয়া। বাঙালির কাছে এই তিথির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পিতৃপুরুষের স্মরণ, তর্পণ এবং দেবীপক্ষের সূচনার আবেগ। বহু মানুষ ভোরে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল নিবেদন করেন। আবার অনেকে বাড়িতেই প্রার্থনা ও স্মরণের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন।

প্রচলিত হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়। তর্পণ না করলেও অনেকে নিরামিষ আহার, দানধ্যান এবং প্রার্থনার মতো রীতি পালন করেন। তবে এই নিয়মগুলির সবকটিই যে প্রত্যেক পরিবারের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক, এমন নয়। পরিবার, অঞ্চল ও ধর্মীয় রীতিভেদে আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্য থাকতে পারে।

মহালয়ায় কোন কাজগুলি এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়?

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে কয়েকটি কাজ এড়িয়ে চলেন অনেকে। এই নিয়মগুলি মূলত ধর্মীয় আচার ও পারিবারিক প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত।

১. শুভকাজ শুরু করা এড়িয়ে চলেন অনেকে

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে বিয়ে, বাড়ি বা গাড়ি কেনা কিংবা নতুন ব্যবসা শুরু করার মতো কিছু শুভকাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে পরিবার ও সম্প্রদায়ভেদে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই একে সর্বজনীন ধর্মীয় নিষেধ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

২. আমিষ খাবার এড়িয়ে চলা

মহালয়ার দিনে অনেক পরিবারে নিরামিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। পিতৃপুরুষের স্মরণ ও ধর্মীয় আচার পালনের অংশ হিসেবে কেউ কেউ এদিন আমিষ খাবার এড়িয়ে চলেন। তবে এটি প্রচলিত পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির বিষয়।

৩. পূর্বপুরুষের ছবির সামনে আমিষ খাবার না দেওয়া

যাঁরা বাড়িতে প্রয়াত আত্মীয়দের ছবি রেখে তাঁদের স্মরণ করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে মহালয়ার দিনে ছবির সামনে নিরামিষ খাবার বা পছন্দের কোনও পদ নিবেদন করেন। এটি পারিবারিক বিশ্বাস ও প্রথার উপর নির্ভরশীল।

৪. তর্পণ করলে চুল-দাড়ি না কাটা

কিছু প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, যাঁরা মহালয়ার দিনে তর্পণ করেন, তাঁরা চুল-দাড়ি কাটা এড়িয়ে চলেন। তবে এই নিয়ম সর্বত্র একইভাবে পালিত হয় না। নিজের পরিবারের প্রচলিত আচার অনুসরণ করাই অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. মদ্যপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকা

মহালয়ার মতো ধর্মীয় তিথিতে সংযমী জীবনযাপন ও প্রার্থনায় মন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় অনেক পরিবারে। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকে এদিন মদ্যপান ও ধূমপান এড়িয়ে চলেন।

মহালয়ার দিনে কোন কাজগুলি করতে পারেন?

মহালয়ার তাৎপর্য শুধু নিষেধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পিতৃপুরুষকে স্মরণ, প্রার্থনা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেও দিনটি পালন করেন অনেকে।

ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা: মহালয়ার ভোরে উঠে স্নান করে প্রার্থনা করা এবং দিনটি শান্তভাবে শুরু করার রীতি বহু বাঙালি পরিবারে প্রচলিত।

পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ: যাঁরা পারিবারিক রীতি অনুযায়ী তর্পণ করেন, তাঁরা পুরোহিতের নির্দেশ মেনে তা পালন করতে পারেন। গঙ্গার ঘাটে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।

বাড়িতে প্রয়াতদের স্মরণ: তর্পণ করা সম্ভব না হলে অনেকে বাড়িতে প্রয়াত আত্মীয়দের ছবি সাজিয়ে মাল্যদান করেন, প্রার্থনা করেন এবং তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন। এই আচার পরিবারভেদে আলাদা হতে পারে।

দানধ্যান: মহালয়ার দিনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, খাবার বা প্রয়োজনীয় পোশাক দান করার রীতি রয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

পশুপাখিকে খাবার দেওয়া: অনেকে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে পশুপাখিকে খাবার দেন। এ ক্ষেত্রে প্রাণীদের উপযোগী খাবার দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ ও নামজপ: বিষ্ণুর নামজপ, গীতা, রামায়ণ বা মহাভারত পাঠের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন অনেকে। প্রার্থনা ও ধর্মীয় পাঠ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল।

তর্পণ না করলেও কি মহালয়ার নিয়ম মানতে হবে?

মহালয়ার দিনে তর্পণ করা বা না করা ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক প্রথা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তর্পণ না করলেও পূর্বপুরুষদের স্মরণ, প্রার্থনা, দানধ্যান কিংবা পরিবারের প্রচলিত রীতি অনুসরণ করতে পারেন।

মনে রাখা প্রয়োজন, মহালয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নিয়ম মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচারের অংশ। সব নিয়ম পালন করলেই সারা বছর সুখ-শান্তি নিশ্চিত হবে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে অনেকের কাছে এই দিনটি পূর্বপুরুষদের স্মরণ, সংযম এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ উপলক্ষ।

তাই মহালয়ায় কোন নিয়ম পালন করবেন, তা ঠিক করার সময় নিজের বিশ্বাস ও পারিবারিক রীতিকে গুরুত্ব দিন। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সহমর্মিতা, সংযম এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মনোভাবও এই তিথির তাৎপর্যকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন