পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পে (WBHS) নথিভুক্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। যাঁদের কাছে নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের নামে স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi) কিংবা আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) কার্ড রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট কার্ড জমা দিতে হবে। রাজ্যের অর্থ দফতরের ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী, কার্ড জমা দেওয়ার প্রমাণ-সহ নির্দিষ্ট ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬। নির্দেশ অমান্য করলে স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া এবং সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে।
এই নির্দেশিকা শুধু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় থাকা পেনশনভোগী এবং সর্বভারতীয় পরিষেবার (All India Services) আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। তাঁদের পরিবারের যে সদস্যরা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকার্ডের সুবিধাভোগী, তাঁদের কার্ড থাকলেও তা জমা দিতে হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেল থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া ৯২-F(MED)WB নম্বরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য প্রকল্পে নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও কিছু কর্মী, পেনশনভোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড রয়েছে বলে সরকারের নজরে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলি অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার্ড জমা দিলেই প্রক্রিয়া শেষ হবে না। যাঁদের নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের নামে এই কার্ড ছিল বা রয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট ছকে ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে। কার্ড জমা দেওয়ার প্রমাণ বা প্রাপ্তিস্বীকারও তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে নিজেদের দফতরের প্রধানের কাছে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে তা জমা দিতে হবে যে দফতরে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের চিকিৎসা সংক্রান্ত দাবি পেশ করেন, সেখানে। সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান, ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO) এবং পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষকে জমা পড়া নথি যাচাই করে তার হিসাব রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় সময়সীমা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—কার্ড জমা এবং ঘোষণাপত্র পেশের কাজ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় পাওয়া চিকিৎসা পরিষেবা ও অন্যান্য সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। নির্দেশটি এমন নয় যে রাজ্যের প্রত্যেক সরকারি কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত—দুটি কার্ডই জমা দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পে নথিভুক্ত এবং নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের নামে এই দুই প্রকল্পের কোনও কার্ড রয়েছে বা ছিল, এমন কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্যই কার্ড জমা ও ঘোষণাপত্রের শর্ত প্রযোজ্য।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্মী ও পেনশনভোগীদের নিজেদের স্বাস্থ্য প্রকল্পের নথি যাচাই করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কার্ড জমা এবং ঘোষণাপত্রের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। শেষ মুহূর্তে নথি জমা দিতে গিয়ে যাতে কোনও প্রশাসনিক সমস্যা না হয়, সে জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রক্রিয়াটি শেষ করা জরুরি।



