বাগদা উপনির্বাচনের আগে অনেকেই বোধহয় শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, রাজনীতিতে নবাগতা মধুপর্ণা ঠাকুর কি তৃণমূলের ঝুলিতে মতুয়া ভোট ফিরিয়ে দিতে পারবেন? ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল, সেই কাজে সমর্থ হয়েছেন তিনি। প্রায় ৩৪ হাজার ভোটে বাগদা উপনির্বাচন জিতেছেন বছর পঁচিশের মধুপর্না। হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বিনয় কুমার বিশ্বাসকে।
বাগদা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী বিনয় কুমার বিশ্বাস হলেও মধুপর্নার মূল লড়াই ছিল তার খুড়তুতো দাদা শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে। সম্পর্কে খুড়তুতো দাদা হলেও শান্তনু দু’বারের বনগাঁর সংসদ এবং কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও বাগদা বিধানসভা থেকে ২০ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিলেন শান্তনু। ফলে একটা সন্দেহ তো ছিলই, শান্তনুর মত হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে মধুপর্ণা আদৌ সাফল্য পাবেন কিনা।



আর এক ক্ষেত্রেই বলা যেতে পারে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন। ১৩ বছর পর মধুপর্ণার হাত ধরে বাগদা পুনরুদ্ধার করল তৃণমূল। সামনেই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মতুয়া গড়ে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে পারাটা নিঃসন্দেহে তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়।
লোকসভা নির্বাচনের আগেই ঠাকুরনগরের মতুয়া মহাসংঘ ঠাকুরবাড়িতে তুলকালাম বাধে। এই মতুয়া সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে তৃণমূলের পক্ষেই ছিল। যতদিন বেঁচে ছিলেন মধুপর্ণার বাবা কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। তিনি ছিলেন বনগাঁর সংসদ। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে মধুপর্ণার মা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বনগাঁ কেন্দ্র থেকে শান্তনু ঠাকুরের কাছে হেরে যান। এরপর থেকেই মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের কায়েম প্রতিষ্ঠা করে বিজেপি। যার সুফল কিছুদিন আগের লোকসভা নির্বাচনেও পেয়েছে পদ্ম শিবির। কিন্তু এবারের বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল যেন কিছুটা হলেও চাকা ঘুরিয়ে দিল।


মাস্টারস্ট্রোক মমতার, মতুয়া-ভোট ফের তৃণমূলের ঝুলিতে, সৌজন্যে বছর পঁচিশের মধুপর্ণা

লোকসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া ঠাকুর বাড়িতে প্রয়াত বীণাপাণি দেবীর ঘর তালা বন্ধ করে দেন শান্তনু ঠাকুর। জবাবে অনশনে নামেন মধুপর্ণা এবং মমতা বালা। সেই থেকেই একটা আঁচ ছিল যে মধুপর্ণা রাজনীতিতে নামতে পারেন। আর সেই সিদ্ধান্তই নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফল্য এলো এই স্ট্র্যাটেজিতেই। জয়ের পর ফের একবার বীণাপাণি দেবীর ঘরের তালা ভাঙলেন মধুপর্ণা অনুগামীরা। উল্লেখ্য, মধুপর্ণা এই মুহূর্তে বাংলার সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক। ভেঙেছেন রাজ্যের প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ড।







