নজরবন্দি ব্যুরোঃ আজও অমীমাংসিত জোট রফা। সামনের ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃনমুল,বিজেপির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ ভাবে লড়তে চলেছে বাম এবং কংগ্রেস। গত বৈঠকে কংগ্রেস ১৩০ টি আসনে লড়ার দাবী করেছিল, কিন্তু তার মধ্যে বেশ কয়েকটি আসন ছিল বামেদের পুরনো জিতে ফেরা ঘাঁটি। ফলত বামেরা ছাড়তে নারাজ সেই আসন গুলি। এই নিয়ে গত বৈঠকেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। আজকের বৈঠকও শেষমেশ কোন সমাধান দেখাতে পারল না জোট রফায়। জানুয়ারির শেষে আবার বসবে বৈঠকে। গত কয়েক বছরে বিজেপির কাছে অনেকটা জমি হারিয়েছে বামেরা, বিশেষ করে গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ ১৬ ফেব্রুয়ারির আগে মমতার বাড়িতেও পদ্ম ফোটাবেন! চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
লোকসভা ভোটে ভোটব্যাঙ্কের ভোট বাম থেকে রামে গিয়েছে বেশ ভালো হারে ।সেদিকের বিচারে বামেরা আরও বেশি আসন ছেড়ে কংগ্রেসকে লড়তে দিক বাংলার ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে। পাল্টা জবাবে বামদল সাজিয়েছে নিজেদের যুক্তি। গত ১১ বছরে বাংলায় শুধু বাম নয়, ধাক্কা খাচ্ছে বাম-কংগ্রেস উভয় দলই। সেসবের দিকে নজর রেখেই বাম দলের যুক্তি জেলা ও মহকুমা স্তরে আন্দোলনের ধারাবাহিকতার প্রশ্নে বামেরা কংগ্রেসের চেয়ে বহু এগিয়ে, তাই জোটের রফা হওয়া উচিত এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই।
দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসনের পর প্রায় এক ধাক্কায় বাংলায় বিরোধী দলে পরিনত হয়েছিল বামেরা। এখনও বিজেপির গেরুয়া হাওয়াতে বাংলায় আপাপ্তত বিরোধী দল হিসেবে মাথা তুলেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে যেখানে দলের সাংগঠানিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই মুস্কিলের সেখানে নির্বাচন লড়তে একক ভাএ কংগ্রেস্কে ১৩০ আসন ছেড়ে দিতে নারাজ বাম সংগঠন গুলি। ভোটে লড়ার স্বার্থে নিজেদের পুরনো আসনে কংগ্রেসকে লড়তে জায়গা ছারলেও,নিজেদের নিশ্চিত এবং পুরনো ঘাঁটি থেকে নিজেদের প্রার্থী তুলে নিতে চাইছে না বামেরা।
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৩০টিতে লড়তে চেয়ে বামেদের কাছে তালিকা পাঠিয়েছে কংগ্রেস। এই তালিকায় আছে মালদার গাজোল, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট উত্তর, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর পূর্ব এবং বাঁকুড়ার ছাতনা বিধানসভার নাম। ২০১৬-তে এই ৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল বামেরা।জট বেধেছে সেখানে। কলকাতার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আসন আছে।যার মধ্যে পড়ছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর,পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নির্বাচনী কেন্দ্র কলকাতা বন্দর,পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র বালিগঞ্জ,বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র রাসবিহারীর মতো কেন্দ্র।
আজও অমীমাংসিত জোট রফা।উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টির মধ্যে ১৭টি,মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে ১৮টি চেয়েছে কংগ্রেস।বামেদের কিসের ভিত্তিতে গতবারের তুলনায় বেশি আসন চাইছে কংগ্রেস?কেনই বা বামেদের জেতা আসনও দাবি করা হচ্ছে? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন ৫ বছর আগে যে পরিস্থিতি ছিল, আজকে সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আছে তেমন নয়। অনেক বদলেছে, আমরা একটা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছি, আলোচনা হবে, আমরা তো অনমনীয় নয়, যে দিতেই হবে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, আমাদের মূল লক্ষ্য তৃণমূল এবং বিজেপিকে হারানো।
যে যেখানে জেতার মতো পরিস্থিতিতে আছে, সেখানে তাদেরই লড়া উচিত। ঐক্যবদ্ধভাবেই লড়তে হবে। কোনও বিষয়ে, কোনও পক্ষেরই অনমনীয় হওয়া উচিত নয়। আসলে দু দলই বুঝে গেছেন বাংলায় লড়তে গেলে জোট বাঁধতে হবেই বাম কংগ্রেসকে। সেই কারণেই ফের ২৮সে জানুয়ারি অধির রঞ্জনের উপস্থিতিতে আবার বৈঠকে বসতে চলেছে দু’দলই।



