বাম-কংগ্রেস ফের জোট? অধীর-সেলিমের বার্তায় জল্পনা তুঙ্গে বঙ্গ রাজনীতিতে

বিহার ভোটে আরজেডি-র সঙ্গে কংগ্রেস-বাম জোট, এবার বাংলাতেও কি পুনরাবৃত্তি? অধীর চৌধুরী ও মহম্মদ সেলিমের ভাষণে জোট রাজনীতির ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম-কংগ্রেস ও আরজেডি-র জোট তৈরি হওয়ায় নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠছে— বিহারের মতোই কি বাংলাতেও বাম-কংগ্রেস জোট (Left Congress Alliance in Bengal) ফের একজোট হয়ে মাঠে নামবে? মঙ্গলবার মধ্য কলকাতার রামমোহন হলে অধীর চৌধুরী ও মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


অধীরের বার্তায় জোট রাজনীতির সুর
হাফিজ আলম সাইরানির প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় একমঞ্চে ছিলেন বিমান বসু, অধীর চৌধুরী, মহম্মদ সেলিম, শুভঙ্কর সরকার ও মনোজ ভট্টাচার্য। সেখানেই অধীর বলেন, “জাতপাতের রাজনীতি বাংলার সংস্কৃতিতে ছিল না। আমরা শ্রেণির লড়াই চিনতাম, জাতের নয়। এখন উত্তর ভারতের সিনড্রোম বাংলাকে গ্রাস করছে। তাই তত্ত্বের কচাকচানি নয়, বাংলাকে বাঁচাতে দরকার উদার, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্য।”

অধীরের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দেখছেন Left Congress Alliance in Bengal 2026-এর সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে। যদিও কিছুদিন আগেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছিলেন, রাজ্যের ২৯৪টি আসনে কংগ্রেস একা লড়বে। তবু অধীরের সামনেই সেই সভায় ফের জোটের সুর শোনা গেছে, যা কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


সেলিমের কণ্ঠেও জোটের আহ্বান
অধীরের পর মঞ্চে উঠে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তি মানুষকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করছে। এর মধ্যেই মানুষের দাবি-দাওয়া থেকে মন সরিয়ে দিচ্ছে সরকার। তাই গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সব শক্তিকে একজোট হয়ে এই ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেলিমের এই বক্তব্যও স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বামেদের মনোভাব এখনো জোটের পক্ষে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।


২০২৪ লোকসভায় সীমিত সাফল্য, কিন্তু নতুন ভরসা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট মাত্র একটি আসন— মালদা দক্ষিণে জয়ী হয়। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী জয় পান। যদিও অধীর চৌধুরী, মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী-সহ একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী হেরে যান।

তবে ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জোট ১১টি বিধানসভা আসনে লিড নিয়েছিল। মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় তারা দ্বিতীয় স্থানে ছিল। সুজাপুরে জোট ৮৩ হাজার ভোটে লিড নেয় এবং ফরাক্কায় ৪০ হাজারের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এই তথ্যই নতুন করে বাম-কংগ্রেসের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।


বিহারের জোট মডেল কি অনুপ্রেরণা বাংলায়?
বিহারে আরজেডি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস ইতিমধ্যেই একসঙ্গে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। অধীর চৌধুরী সেখানে কংগ্রেসের অন্যতম স্টার ক্যাম্পেনার এবং সিনিয়র অবজার্ভার। রাজনৈতিক মহল বলছে, বিহারের এই Left Congress RJD Alliance বাংলার জোট রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

অধীরের ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, তিনি বাংলায়ও একই ধরনের ঐক্য চান। কারণ তাঁর বক্তব্যে বারবার “ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্য” কথাটি উঠে এসেছে, যা একেবারে কংগ্রেস-বাম ঐক্যের রোডম্যাপের মতোই।


আইএসএফ-কে নিয়ে দ্বিধা, আলিমুদ্দিনের নীরবতা
অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন আইএসএফ (ISF) কয়েক মাস আগে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোটে ফেরার আগ্রহ দেখিয়ে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সিপিএম নেতৃত্ব এখনও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। আলিমুদ্দিন সূত্রের দাবি, “এখনই জোটের দরজা পুরোপুরি খোলা নয়, তবে আলোচনা বন্ধও নয়।”


রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
বাম-কংগ্রেসের পুরনো জোট ২০২১-এ ব্যর্থ হলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দলের অভ্যন্তরে ঐক্যের দাবি বাড়ছে। তৃণমূল ও বিজেপির বাইরে বিকল্প গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ার আকাঙ্ক্ষাই এই নতুন জোট রাজনীতির ভিত্তি হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই জোটই হতে পারে বাংলার রাজনীতিতে “তৃতীয় শক্তির” প্রত্যাবর্তনের সূচনা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত