নজরবন্দি ব্যুরোঃ পায়ে পড়তে হবেনা, সংবিধান মেনে চলুন! এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে পরামর্শ দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল থেকে রাজ্যে আলোচনার কেন্দ্রে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি। আচমকা এমাসের শেষে তাঁকে দিল্লিতে যোগদান করতে বলেছে কেন্দ্র। তৃণমূল ছাড়া বাম-কংগ্রেস, প্রাক্তন আমলা প্রায় সকলেই মনে করছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একাজ করেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে আজ সাংবাদিক সম্মেলন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ চড় খেয়ে বাড়ল জেদ, ভবানীপুর উপ-নির্বাচনে মমতাকে রুখতে লড়বেন রুদ্রনীল!
নবান্ন থেকে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। বাংলায় ক্ষমতা কায়েম করতে পারেনি ‘২১ এর নির্বাচনে তাই মুখ্যসচিবকে সরিয়ে জব্দ করতে চাইছে তাঁকে। সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন আলাপনের ভুল কী? কাজের কোন গাফিলতি থেকে কোন ক্ষেত্রে অভিযোগ নেই, মেয়াদ বাড়ানোর পরেও রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম যোগাযোগ না করেই এই ধরণে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র স্রেফ বাংলাকে জব্দ করতে।
বৈঠকে মমতা এও বলেন, “বাংলা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলার জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়তে পারি। প্রধানমন্ত্রী, আমার উপর আপনার রাগ থাকতে পারে। যদি আপনার পায়ে পড়লে সেই রাগ চলে যায় তাও করতে তৈরি আমি। কিন্তু বারবার এভাবে অপমান করবেন না।”
এই প্রসঙ্গেই তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ফেসবুক লাইভে বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পায়ে পড়তে হবেনা, সংবিধান মেনে চলুন! তাঁর কথায়, ”প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়ার দরকার নেই, আপনি সংবিধানটুকু মেনে চলুন, তাহলেই হবে।” এদিন নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে পরাজিত করার স্মৃতি উসকে খোঁচাও দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেখা গেল সেটা দলীয় বৈঠকে পরিণত হল।”
তাঁর কথায়, “বিরোধী দলনেতাকে ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনীতি করা হচ্ছে। ওড়িশাতেও বিরোধী দলনেতাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তাঁর কোভিড হওয়ায় তিনি থাকতে পারেননি। এই রাজ্যেও বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরি। ব্যস্ততা থাকায় তিনি আসতে পারেননি।” তাঁর ব্যাখ্যা, “নন্দীগ্রামে হেরেছেন বলেই আমায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানতে চান না মাননীয়া। একজন অনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মানুষের ভোটে নির্বাচিত বিরোধী দলনেতাকে অস্বীকার করতে পারেন না। ফিস ফ্রাই খাইয়ে বিরোধীদের ম্যানেজ করেছেন আগে কিন্তু আমাদের সেটা করা যাবে না।”








