লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের অভিযোগ! ৪৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে SIT গঠনের ঘোষণা

'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পে ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের অভিযোগ তুলে SIT গঠনের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। বছরে ৪৫০ কোটি টাকার অনিয়মের আশঙ্কা প্রশাসনের।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ তুলে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভুয়ো উপভোক্তার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারের দাবি, প্রকল্পে বছরে অন্তত ৪৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ২২ জন পুরুষের নামে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা ঢোকার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ঘটনাই মুর্শিদাবাদ জেলার। বিশেষ করে জঙ্গিপুর মহকুমা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি সরকারের।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে উঠে এসেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের নাম। তিনি দাবি করেন, রাকিবুল, মুস্তাফিজুর রহমান, তাঁর স্ত্রী তুহিনা এবং তারিকুল রহমানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা গিয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এই ঘটনার তদন্তে রাজ্যের ডিজিপিকে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, আর্থিক দুর্নীতিরও বিষয়। তদন্তে প্রয়োজন হলে মানি লন্ডারিংয়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছেও বিষয়টি পাঠানো হতে পারে।

একই সঙ্গে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নতুন প্রকল্পকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। যদিও বাস্তবে বিপুল সংখ্যক মানুষ আবেদনপত্র জমা দিতে এগিয়ে এসেছেন। সোমবার থেকেই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সরকারি সূত্রে দাবি, প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষ আবেদন যাচাই করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রধান সচিব স্তরের আধিকারিকদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে প্রশাসনের আশা।

এদিকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা তৈরির অভিযোগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা-১ ব্লকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি শুরু হয়েছে। অভিযোগ, টাকা নিয়ে একাধিক ভুয়ো নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূলের একাধিক স্থানীয় নেতার নাম উঠে এসেছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ বাদ পড়া নাম এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের মিলিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ অ্যাকাউন্ট তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। সেই হিসাব ধরেই সরকারের অনুমান, গত কয়েক বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।

সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবার আরও কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। SIT তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে প্রকৃত আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ এবং দায়ীদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর