হঠাৎ করেই দেখা দুই ঘোষের! একজন, তৃণমূলের কুণাল ঘোষ। অন্যজন, দিলীপ ঘোষ। দিলীপকে দেখেই হাসি মুখে এগিয়ে গেলেন কুণাল। করমর্দন করলেন বিজেপি নেতার সঙ্গে। ঘটনাস্থল, সল্টলেকের এমপি-এমএলএ কোর্ট। এদিকে, আবার আজ দিলীপের জন্মদিন। যদিও তা জানতেন না কুণাল। বিজেপি নেতার পাশে যারা ছিলেন তাঁরা কুণালকে মনে করিয়ে দেন সে কথা। দ্বিতীয়বার আবার এগিয়ে গিয়ে হাত মেলান তৃণমূল নেতা। দিলীপকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
অনেকদিন পর সৌজন্যের রাজনীতির সাক্ষী থাকল গোটা বাংলা। সাম্প্রতিক অতীতে এই ঘটনা আগে কতবার দেখা গিয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাও আবার বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে! একসময় দুই যুযুধান নেতা কংগ্রেসের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ও সিপিআইএম-এর জ্যোতি বসুর মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও তাঁরা ‘বন্ধু’ বলে পরিচিত ছিলেন রাজনৈতিক মহলে। যদিও এই সময় সেসবের বালাই নেই। সেক্ষেত্রে স্রোতের বিপরীতে হেঁটে আজ কিছুটা হলেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দুই ঘোষ!



এর আগে আজ দিলীপ ঘোষের জন্মদিন পালন হয় বিধানসভায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকাত্রী ফোন করে দিলীপকে ডাকেন বিধানসভায়। এরপর শুভেন্দুর ঘরেই পালিত হয় দিলীপের জন্মদিন। নিজের হাতে দিলীপকে মিষ্টি খাইয়ে দেন শুভেন্দু। গলার পরিয়ে দেন গেরুয়া উত্তরীয়। দিলীপও শুভেন্দুকে মিষ্টিমুখ করান। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক কোলাহলের মধ্যে আজ দিলীপের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কিছুটা খুশির বাতাবরণ রাজনৈতিক মহলে।



শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয় বলে কানাঘুষো শোনা যেত। যদিও আজ একেবারেই তার লেশমাত্র দেখা যায়নি। বিধানসভায় সমবেতভাবে বিজেপি বিধায়কেরা দিলীপের জন্মদিন পালন করলেন। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন দিলীপ। এর পর থেকেই কিছুটা ‘মনমরা’ দেখায় তাঁকে। তবুও, হারের পরেও কর্মীদের ‘ভালোবাসা’ পাচ্ছেন দিলীপ। তিনিই যে বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম জনপ্রিয় নেতা, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।








