নজরবন্দি ব্যুরো: সল্টলেক করুণাময়ীতে জোর করে ২০১৪-র টেট প্রার্থীদের অনশন আন্দোলন ভেঙে দিতেই সরব বিরোধীরা। সিপিএম ও বিজেপিই আন্দোলনকারীদের প্ররোচনা দিচ্ছেন ও বিভ্রান্ত করছেন। সস্তার রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। করুণাময়ী-কাণ্ডের পর এই ভাষাতেই বিরোধীদের তোপ দাগলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের।
আরও পড়ুন: ইন্টারভিউয়ের পরে নিয়োগ হবে তো? ৮ বছরের অপেক্ষার পর প্রশ্ন চাকরি প্রার্থীদের
কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বছরে ২ কোটির চাকরির ভাঁওতা দিয়ে আপনারা ভোট পেয়েছিলেন। এখন যদি রেল, সেনা বাহিনী বা কেন্দ্রীয় সরকারের অন্য সরকারি পরীক্ষাগুলিতে পাশ করে, যারা নিজেদের যোগ্য মনে করছেন, তাঁরা যদি এবার, কেন্দ্রীয় সরকারের দফতরগুলির সামনে, চাকরির দাবিতে লাগাতার ধর্ণা শুরু করেন, তখন সামলাতে পারবেন তো ? ‘ প্রশ্ন তোলেন কুণাল। কুণালের মতে, রাস্তায় না নেমে আদালতে যাওয়া উচিত। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু তথা শিক্ষা দফতর জট খোলার চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে সময় যত এগোচ্ছিল, ততই পুলিশের ভিড় বাড়ছিল করুণাময়ীতে। প্রিজন ভ্যানও এসে পৌঁছয় একে একে। এর পর মাইকিং শুরু করে পুলিশ। বলা হয়, আন্দোলনকারীদের জমায়েত। দুই মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে না উঠলে, উঠিয়ে দেওয়া হবে। সেই মতোই মধ্যরাতে তুলে দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের। আন্দোলনকারীদের হাত ধরে টেনে তুলে দেয় পুলিশ। তাতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি বেধে যায়।

‘আমরা কি চোর?’, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার মাঝে রাতের অন্ধকারে পুলিশ কেন তুলে দিল?’তাদের মতো প্রশ্নের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হওয়া সত্বেও কীভাবে রাতের অন্ধকারে মহিলা চাকরিপ্রার্থীদের এভাবে জোর করে তুলে দেওয়া হয়, সেই প্রশ্নও তুললেন আন্দোলনকারীরা।এরপরেই এই ইস্যুতে কড়া নিন্দা করে ট্যুইট করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
সিপিএম ও বিজেপিই আন্দোলনকারীদের প্ররোচনা দিচ্ছেন, দাবি কুণালের

তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পুলিশ সল্টলেকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অফিসের সামনে ২০১৪-র টেট উত্তীর্ণদের অবস্থানকে নির্মমভাবে বলপ্রয়োগ করে তুলে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, না কি, হিটলারের জার্মানি?’



