নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিয়োগ দুর্নীতি থেকে চিরকুটে চাকরি। সব মিলিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের একাধিক নেতারা গ্রেফতার হতেই বাম জমানার প্রথম সারীর নেতাদের নিয়ে টানাপোড়েন শুরু করল তৃণমূল। সুজন চক্রবর্তীর পর এবার তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের নজরে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বাম আমলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা সুশান্ত ঘোষ। সরকারি চাকুরীতে সুশান্ত ঘোষের আত্মীয়দের ছড়াছড়ি। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেতা। পাশাপাশি তদন্তের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে সুশান্ত ঘোষের পরিবারের চাকরির খতিয়ান দিয়ে কুণাল ঘোষ লেখেন। অভিযোগ সত্য? তদন্ত হোক। সিপিএম নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, কঙ্কাল কান্ডে অভিযুক্ত সুশান্ত ঘোষের সম্পর্কে সিপিএম সূত্রেই আসা তথ্য। সুশান্ত ঘোষের বিধায়ক এবং মন্ত্রী থাকাকালীন ১৫ বছরে উনি নিজের পরিবারের যে চাকরিগুলি দিয়েছেন তার তালিকা তুলে ধরেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক।

তিনি লেখেন, বড়বোন এবং ভগ্নিপতির চাকুরী বতর্মানে রিটায়ার্ড, ভাগ্নার চাকুরী আধারনয়ন হাইস্কুলের লাইব্রেরিয়ান, সি,পি,আই দপ্তরের মন্ত্রীকে দিয়ে সেচ দপ্তরে ক্ষীরপাই এ চাকুরী ছোট ভাগ্নার, ছোট বোনের প্রাইমারী স্কুলে চাকুরি, মেজ বোনের স্বামী গড়বেতার কেশিয়াতে বাড়ি প্রাইমারী স্কুলে চাকুরী , সেজ বোনের স্বামীর মেদিনীপুর প্রাইমারী বোর্ডে চাকুরী, তার পরেও বোন আই,সি,ডি,এস এর সুপারভাইজারের চাকুরী এবং ঐ ভগ্নীপতীর সি,পি,আই (এম) মন্ত্রীকে দিয়ে সেচ দপ্তরে চাকুরী ।
এছাড়াও তিনি লেখেন, পিসতুতো দুই ভাই ছত্রগঞ্জের তরুন রায় ও তার দাদার চাকুরী, তাড়া গ্রামের সুনীল মালের ভাই এর পরিবহন দপ্তরে ও তার মেয়ের প্রাইমারী স্কুলে চাকুরী, মামাতো ভাই অতনু খামরুই ও তাপস খামরুই এর পরিবহন দপ্তরে চাকুরী, সুশান্ত ঘোষের নিজের স্ত্রী প্রাইমারী শিক্ষক ছিলেন তা বামফ্রন্টের আমলেই, এক শালীর মেদিনীপুর এক্সচেঞ্জ অফিসে পিওনের চাকুরী, ছোট শালপতি ভাই এর হাইস্কুলে চাকুরী আরও এক শালা ও শালীর চাকুরী উনার বড় শালা অরবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, উনিও পাটির জেলা কমিটির সদস্য। উনি পাটির হোল টাইমার চন্দ্রকোনা রোডে বাড়ি, বর্তমানে দিল্লীতে কয়েক কোটি টাকার ফ্ল্যাট বলে শোনা যায়।
সরকারি চাকুরীতে সুশান্ত ঘোষের আত্মীয়দের ছড়াছড়ি, সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ কুণালের

তাঁর সংযোজন, প্রাক্তন মন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ির এবং উনার ভাই বোন আত্মীয় স্বজন কেউ বেকার নেই। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র।



