নয়ের দশকের বলিউড মানেই কুমার শানুর (Kumar Sanu) কণ্ঠে একের পর এক হিট রোম্যান্টিক গান। ‘আশিকি’, ‘সাজন’, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’—একটি গোটা প্রজন্মের প্রেমের নেপথ্যসঙ্গীত হয়ে উঠেছিল তাঁর গলা। সেই সোনালি সময়েরই অন্দরমহল নিয়ে এবার মুখ খুললেন গায়ক। তাঁর দাবি, অশ্লীল বা দ্ব্যর্থবোধক গান গাইতে ব্যক্তিগত ভাবে অনিচ্ছুক থাকলেও ইন্ডাস্ট্রির প্রবল চাপের মুখে তাঁকে দু’-একটি গান গাইতে হয়েছিল। এমনকী, সেই চাপকে তিনি ‘মুভি মাফিয়া’-র প্রভাবের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নয়ের দশকের হিন্দি ছবির গান নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময়কার কিছু গানে অশালীন শব্দ বা দ্ব্যর্থবোধক বক্তব্য ব্যবহারের প্রসঙ্গ ওঠে। তখনই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কুমার শানু। তাঁর বক্তব্য, গান গাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের একটি নীতি ছিল এবং অশ্লীলতা রয়েছে এমন গান এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করতেন তিনি।
তবে শিল্পীজীবনে সব সিদ্ধান্ত নিজের ইচ্ছেমতো নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন গায়ক। তাঁর দাবি, এমন এক-দু’টি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন প্রবল পেশাগত চাপের কারণে নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওই ধরনের গান গাইতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে না নিলে কাজের ক্ষেত্র আরও কঠিন হয়ে যেতে পারত।
কুমার শানুর দাবি, ইন্ডাস্ট্রির একটি শক্তিশালী অংশের কাছ থেকে তাঁর উপর চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই চাপের কারণে কয়েকটি ক্ষেত্রে আপস করতে হলেও নিজের মূল নীতি থেকে তিনি পুরোপুরি সরে যাননি। তাঁর নিজের বিচারেও এমন এক-দু’টি গান রয়েছে, যেগুলিকে বিতর্কিত বা অশালীন গানের তালিকায় রাখা যায়।
এই প্রসঙ্গে তিনি ‘রাজ গয়া তবলা তবেলে মে…’ গানটির উদাহরণ দিয়েছেন। নয়ের দশকের জনপ্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত একাধিক গান নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা হচ্ছে, তখন নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথাই সামনে আনলেন গায়ক। তবে কোন পরিস্থিতিতে ঠিক কী ধরনের চাপ ছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে জানাননি তিনি।
শুধু গান গাওয়ার চাপ নয়, নিজের নীতিতে অটল থাকার মূল্যও দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমার শানু। তাঁর বক্তব্য, কিছু ধরনের গান না করার সিদ্ধান্তের কারণে পেশাগত ভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এমনকী আর্থিক ক্ষতিও হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে সেই সিদ্ধান্তের জন্য আজও তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। গায়কের কথায়, বেশি কাজ পাওয়ার জন্য কিংবা জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য নিজের পছন্দ এবং মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করতে তিনি রাজি ছিলেন না। কাজের সুযোগ কমে গেলেও নিজের নীতির পথে থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
নয়ের দশকে কুমার শানুর জনপ্রিয়তা ছিল অন্য মাত্রার। একের পর এক রোম্যান্টিক গান তাঁকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় পুরুষ কণ্ঠে পরিণত করেছিল। সেই সময়ের সংগীতজগত নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য তাই নতুন করে সেই সময়ের ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ, শিল্পীদের উপর চাপ এবং বাণিজ্যিক চাহিদার প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।
তবে ‘মুভি মাফিয়া’ বা ইন্ডাস্ট্রির কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি নাম করে অভিযোগ করেননি কুমার শানু। তাঁর বক্তব্য মূলত নিজের অভিজ্ঞতা এবং সেই সময়কার পেশাগত চাপকে ঘিরে। ফলে তাঁর মন্তব্যকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ হিসেবে নয়।
কুমার শানু কি অশ্লীল গান গাইতে বাধ্য হয়েছিলেন?
কুমার শানুর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পেশাগত চাপের কারণে এক-দু’টি বিতর্কিত বা অশ্লীল গান তাঁকে গাইতে হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই এই ধরনের গান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
‘মুভি মাফিয়া’ নিয়ে কী বলেছেন কুমার শানু?
গায়কের দাবি, নয়ের দশকে ইন্ডাস্ট্রির একটি শক্তিশালী অংশের চাপ তাঁর উপর ছিল। সেই চাপের কারণে কিছু ক্ষেত্রে নিজের নীতির সঙ্গে আপস করতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
অশ্লীল গান নিয়ে তাঁর অবস্থান কী ছিল?
কুমার শানু জানিয়েছেন, অশ্লীলতা বা দ্ব্যর্থবোধক কথা রয়েছে এমন গান তিনি ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ করতেন না। জনপ্রিয়তার চেয়ে নিজের নীতি ও পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
নিজের সিদ্ধান্তের কারণে কি ক্ষতি হয়েছিল?
গায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের নীতিতে অটল থাকার কারণে পেশাগত ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজও তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই।
নয়ের দশকের বলিউডের ঝলমলে সাফল্যের আড়ালে শিল্পীদের কী ধরনের পেশাগত চাপের মুখে পড়তে হত, কুমার শানুর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই প্রশ্নই ফের সামনে এনেছে। তবে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা—এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট, বিপুল জনপ্রিয়তার সময়েও নিজের নীতির সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্তকে আজও মূল্য দেন এই গায়ক।



