দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, রবিবার ১৬ অগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প। প্রথম পর্যায়ে ৩ কোটিরও বেশি উপভোক্তাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। একইসঙ্গে ১৬ অগস্টকে রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আজ থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়।
এতদিন পশ্চিমবঙ্গ এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের বাইরে ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অল্প সময়ের জন্য রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY) চালু হয়েছিল। পরে রাজ্য সরকার প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালে সরকার বদলের পর ফের এই প্রকল্প বাংলায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এবার রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালুর ফলে যোগ্য উপভোক্তারা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার স্বাস্থ্য কভার রয়েছে। তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নির্দিষ্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্যাশলেস পরিষেবার সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে প্রথম পর্যায়ে ৩ কোটির বেশি মানুষকে প্রকল্পের আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারত চালুর আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩.৪ কোটি মানুষ এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনাতেও প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষের নাম নথিভুক্ত হয়েছে বলে খবর।
আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একাধিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কোন কোন হাসপাতাল প্রকল্পের আওতায় থাকবে এবং কীভাবে উপভোক্তারা চিকিৎসার সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে কাজ এগিয়েছে। প্রকল্পটি চালুর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা। কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, AB-PMJAY-তে যোগ্য দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলির জন্য বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কভার রয়েছে। ২০২৪ সালে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকদেরও আর্থিক অবস্থার ঊর্ধ্বে উঠে এই প্রকল্পের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে বাংলায় প্রকল্পটি চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, এতদিন রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রের এই স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থাও কার্যকর হবে। এর ফলে যোগ্য পরিবারগুলির চিকিৎসার সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প চালুর প্রস্তুতি নিয়ে হাসপাতালগুলির তালিকা ও পরিষেবা কাঠামো নিয়ে কাজ হয়েছে।
আজকের ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মাধ্যমে রাজ্যে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হচ্ছে। ফলে শুধু একটি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু হওয়াই নয়, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এল। এখন নজর থাকবে, বাস্তবে কত দ্রুত উপভোক্তারা কার্ড ও পরিষেবা হাতে পান এবং তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে কীভাবে ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা কার্যকর হয়। প্রকল্পের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে সেই বাস্তব প্রয়োগের উপর।



