কালীপুজো ও দীপাবলিকে সামনে রেখে শহরে ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ করল কলকাতা পুলিশ। আগুন লাগার আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। বুধবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সমন্বয় বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP) মনোজ ভার্মা জানান, দমকল আইনের নিয়ম অনুযায়ী ফানুস ওড়ানো বিপজ্জনক এবং তাই তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তিনি বলেন, “কোনও জায়গায় যেন ফানুস বিক্রি বা উড়ানো না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে থানাগুলিকে। আগুন লেগে বড় বিপর্যয় এড়াতে পুলিশ ও দমকল দুই বিভাগকেই কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
কালীপুজো ও দীপাবলিতে ফানুস ওড়ানোর পাশাপাশি শব্দবাজি নিয়ন্ত্রণ, লাউডস্পিকার ব্যবহারের সময়সীমা, এবং প্রতিমা বিসর্জনের নিয়মকানুন নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পুলিশ। সভায় উপস্থিত ছিলেন দমকল, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, সিইএসসি ও কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিরা।
দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই ফানুসে ব্যবহৃত দাহ্য পদার্থ থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাই এই সময়ে কোনও ভাবেই ফানুস ওড়ানো যাবে না। কলকাতার বিভিন্ন থানা এলাকায় ফানুস বিক্রির উপরও নজরদারি চালানো হবে।
শিশু ও মহিলাদের নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ। থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুজো চলাকালীন যেকোনও অভিযোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। মণ্ডপের কাছে বাজি ফাটানো বা উচ্চ শব্দের সাউন্ড বাজানোতেও থাকবে কঠোর নিষেধ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, “সব পুজো উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিষিদ্ধ শব্দবাজি ব্যবহার ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়াও বহুতল ভবনগুলির জন্য আলাদা ‘সেফটি গাইডলাইন’ বা সুরক্ষা নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে। পুজোর সময় ফ্ল্যাট বা কমপ্লেক্সের বাসিন্দারা কীভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় সতর্ক থাকবেন, তার বিস্তারিত তথ্য সেই গাইডলাইনে থাকবে।
লালবাজার সূত্রে খবর, এ বছর কলকাতায় কালীপুজো উপলক্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ২,৮০০টিরও বেশি পুজোর আবেদন জমা পড়েছে। প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের এই প্রস্তুতি মূলত দুর্ঘটনামুক্ত উৎসবের লক্ষ্যে। আগের বছরগুলিতে ফানুস ওড়ানোর ফলে বহু জায়গায় ছাদে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। এবার তাই প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পুলিশের এই সিদ্ধান্ত উৎসবের আনন্দে সামান্য নিয়ন্ত্রণ আনলেও, তা শহরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।



