দেবরাজ-অদিতির বিরুদ্ধে ফের চার্জশিট, ‘১০০ কোটির বেশি’ লেনদেনের দাবি পুলিশের, উঠল নতুন তথ্য

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty) এবং তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) বিরুদ্ধে ফের চার্জশিট জমা পড়ল বারাসত আদালতে। বুধবার জমা দেওয়া চার্জশিটে সিন্ডিকেট চালানো, জমি দখল, তোলাবাজি এবং প্রতারণার মতো একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। মামলায় বেআইনি পথে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার কম নয় বলেও আদালতে দাবি করেছেন সরকারি আইনজীবী।

চার্জশিটে অর্থের লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক তথ্য রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি পথে পাওয়া টাকা ঢুকেছিল। সেই লেনদেনের বিষয়ে বৈদ্যুতিন নথি-সহ একাধিক প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।

চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছিল। এ ক্ষেত্রে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Leaps and Bounds)-এর নামও এই প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। তবে এই লেনদেনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

মামলার সরকারি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, বেআইনি পথে পাওয়া অর্থের অঙ্ক ১০০ কোটি টাকার কম নয়। তাঁর আরও বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই অর্থের একাংশ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি হুমকি পেয়েছেন বলেও আদালতে জানান সরকারি আইনজীবী। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন চার্জশিটটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-র ১১১ ধারা-সহ একাধিক ধারায় পেশ করা হয়েছে। তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলেই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে আরও তথ্য যোগ করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে গত ৬ অগস্ট দেবরাজের বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা পড়েছিল। বুধবারের চার্জশিটে নতুন করে অদিতি মুন্সির নামও রয়েছে। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই মামলার সূত্রপাত মূলত আয় ও সম্পত্তির হিসাব নিয়ে ওঠা অভিযোগ থেকে। পুলিশের অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেই সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে তদন্তকারীদের তরফে দাবি করা হয়েছে।

দেবরাজের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি, সম্পত্তি গোপন করা এবং অর্থের বেআইনি লেনদেনের মতো অভিযোগও রয়েছে। অদিতি মুন্সির নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানো হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

এই মামলায় গ্রেফতার এড়াতে দেবরাজ ও অদিতি দু’জনেই কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, অদিতি মুন্সি এবং দেবরাজ চক্রবর্তী—দু’জনেই আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন।

পরে দেবরাজকে গ্রেফতার করা হয়। ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে বিধাননগর পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। গ্রেফতারের পর তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তের পরিধি যে এখনও বাড়তে পারে, বুধবারের চার্জশিটে সেই ইঙ্গিতই রয়েছে। অর্থের উৎস, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে লেনদেন, সম্পত্তি হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক বা অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে অর্থ যাওয়ার অভিযোগ—সবকটি দিকই তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। তবে চার্জশিটে থাকা অভিযোগ এখনও বিচারাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখা যাবে না।

এখন নজর থাকবে, এই চার্জশিটের ভিত্তিতে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, তদন্তকারীরা আরও কোনও তথ্য বা নথি পেশ করেন কি না এবং সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট আদৌ দেওয়া হয় কি না। একইসঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থের উৎস ও তার গতিপথ নিয়ে পুলিশের যে দাবি সামনে এসেছে, তারও পরবর্তী তদন্তে কী প্রমাণ মেলে, সেটিই এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর