এবার কলকাতায় ৬ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ! হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাবালিকা

লেক টাউন থানার এলাকায় ৬ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারই মামাকে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকদের সন্দেহে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতায় ফের নাবালিকা যৌন নির্যাতন-এর অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লেক টাউন থানার অন্তর্গত এলাকায় ৬ বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তারই মামার বিরুদ্ধে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর শিশুটিকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় নির্যাতনের ইঙ্গিত মেলে। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন লেক টাউন এলাকার বাসিন্দা ওই শিশুটি বৃহস্পতিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা করার সময় এমন কিছু লক্ষণ দেখতে পান, যা যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হাসপাতাল থেকেই আরজি কর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়। সেখান থেকে বিষয়টি জানানো হয় টালা থানাকে। ঘটনার স্থান লেক টাউন থানার অন্তর্গত হওয়ায় প্রথমে জিরো এফআইআর (Zero FIR) নথিভুক্ত করা হয় এবং পরে মামলাটি লেক টাউন থানায় স্থানান্তরিত করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে শিশুটির মামাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন।

অন্যদিকে, নির্যাতিত শিশুটি এখনও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। মেডিক্যাল পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মহিলাদের ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের তরফে জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারী বা তাঁদের পরিবারের যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। এই ঘটনাতেও সেই নির্দেশিকা মেনেই প্রথমে টালা থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়।

এই ঘটনায় তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন