কাজের প্রতিশ্রুতি, শহরে নতুন জীবনের আশা— আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাচারের অভিযোগ। কলকাতায় এক অভিযানে তিন নেপালি তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্তকারীদের সন্দেহ, এর পিছনে আন্তঃসীমান্ত মানবপাচার চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া তিন তরুণীকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নেপাল থেকে কলকাতায় আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অভিযোগ। পরে তাঁদের উত্তর কলকাতার যৌনপল্লি এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শোভা তামাং-কে। পুলিশের দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় নেপালি মহিলাদের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল বলে সন্দেহ।
গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর রবিবার অভিযান চালায় লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে তিন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য— নেপালের কোন এলাকা থেকে তাঁদের আনা হয়েছিল, কার মাধ্যমে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত। এই ঘটনায় নেপালের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে তরুণীদের আনা হচ্ছে এবং পরে তাঁদের জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই চক্র স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ, নাকি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ— সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও শহরে মানবপাচার সংক্রান্ত একাধিক অভিযানে উদ্ধার হয়েছিল নারী ও নাবালিকারা। ফলে নতুন এই ঘটনার পর আবারও শহরের নজর পড়েছে মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্ত পারাপার নজরদারির উপর।



