ইসলামপুরে মানবপাচার চক্র, ৩ দিনে উদ্ধার ৪০-এর বেশি নাবালিকা, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের চম্পাবাগ এলাকায় টানা পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৪০-এরও বেশি নাবালিকা। মানবপাচার চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। যদিও অভিযোগের জবাব মেলেনি তৃণমূলের তরফে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইসলামপুর মানবপাচার মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের চম্পাবাগ এলাকায় গত তিন দিনে টানা অভিযানে ৪০-এর বেশি নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেও আরও চার নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। যদিও অভিযুক্ত বা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চম্পাবাগ এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের অধিকাংশই বিহারের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেত্রী তথা ওই এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের পাচার করে ওই এলাকায় এনে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার যোগাযোগ রয়েছে এবং অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন এবং পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনও রাজনৈতিক যোগের কথা নিশ্চিত করেনি।

এদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও এখনও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য আসেনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতেও একই এলাকায় বড় অভিযান চালিয়েছিল ইসলামপুর পুলিশ। সেই অভিযানে ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয় এবং মানবপাচার চক্রের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ড্রোন নজরদারিরও ব্যবহার করা হয়েছিল।

ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার রাকেশ সিং জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে পুলিশি তদন্ত এখনও চলমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন