সপ্তাহের শুরুতেই নতুন ধাক্কা—অটোভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের বাজেটে চাপ স্পষ্ট। রান্নার গ্যাসের পর এবার অটো গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি আঘাত হানল শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় একাধিক রুটে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা।
লিটার প্রতি অটো গ্যাসের দাম গত বুধবার পর্যন্ত ছিল ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। শুক্রবার থেকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা ৬৮ পয়সায়। তারও আগে এক দফায় ৫ টাকা বেড়েছিল দাম। অর্থাৎ, অল্প সময়ের মধ্যেই মোট ১৩ টাকার বৃদ্ধি—যা কার্যত চাপে ফেলেছে অটোচালকদের।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শহরের ব্যস্ত রুটগুলিতে। উল্টোডাঙা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ রুটে সোমবার থেকে ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। ১২ নম্বর ট্যাঙ্ক বা সুশ্রুত হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া ২৫ থেকে বেড়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। তবে ইউনিয়নের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম কমলে ভাড়াও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
📍 উত্তর থেকে দক্ষিণ—একই ছবি
শহরের বিভিন্ন রুটেই ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। ফুলবাগান–গিরিশ পার্ক, মানিকতলা রুটে ২-৩ টাকা ভাড়া বেড়েছে। সিঁথির মোড় থেকে দমদম স্টেশন রুটে ভাড়া ১০ থেকে বেড়ে ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক–গড়িয়া, টালিগঞ্জ–যাদবপুর, রানীকুঠি–বাঘাযতীন, পার্ক সার্কাস–ধর্মতলা, জোকা–তারাতলা ও টালিগঞ্জ ফাঁড়ি–ঠাকুরপুকুর রুটেও একই প্রবণতা। যদিও সব জায়গায় ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া বাড়ায়নি, অনেক চালক নিজেরাই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
💬 যাত্রীদের ক্ষোভ
সেক্টর ফাইভের এক আইটি কর্মী তনয়া চৌধুরীর কথায়, “হঠাৎ করে যাতায়াত খরচ এতটা বেড়ে যাওয়ায় মাসের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
⚙️ চালকদের যুক্তি
অটো ইউনিয়নগুলির দাবি, জ্বালানির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরনো ভাড়ায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সল্টলেকের এক ইউনিয়ন নেতার কথায়, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের জোগান কম থাকায় দাম বেড়েছে, তার প্রভাব পড়েছে সরাসরি অটোচালকদের ওপর।
অন্যদিকে, কিছু ইউনিয়ন জানিয়েছে—তাদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও, বাস্তব পরিস্থিতির চাপে অনেক চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
🏛️ পরিবহণ দপ্তরের অবস্থান
পরিবহণ দপ্তর এই বিষয়ে কার্যত অসহায়। এক কর্তার বক্তব্য, অটোভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট কোনও আইনি কাঠামো নেই। ফলে ইউনিয়নগুলিই ভাড়া নির্ধারণ করে। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট—জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদেরই। আর আপাতত এই চাপ কমার কোনও লক্ষণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



