টপ অর্ডারের ধস, মাঝখানে চাপ—এই কঠিন পরিস্থিতিতেই আবারও নিজের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিলেন লোকেশ রাহুল। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি ব্যর্থ হলেও রাহুলের দুর্দান্ত শতরানে ভর করে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছল ভারত। নির্ধারিত ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ২৮৪ রান, ফলে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ২৮৫।
শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ভারতের। আগের ম্যাচের নায়ক রোহিত শর্মা এই দিন ছন্দে ছিলেন না। দ্রুত উইকেট হারানোর পর চাপ বাড়ে। তার মধ্যেই ফেরেন বিরাট কোহলি। ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্কের বলে বাউন্স বুঝতে না পেরে ২৩ রান করে বোল্ড হয়ে যান তিনি। স্কোর তখন ১১৮/৪—স্পষ্ট চাপের মুখে ভারত।
এরপর অধিনায়কের পথেই হাঁটেন সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। একটি নিরীহ বলে খারাপ শট খেলতে গিয়ে মিড-অফে মাইকেল ব্রেসওয়েল-এর হাতে ক্যাচ দেন শ্রেয়স। মাত্র ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তিনটি উইকেটই পড়ে ব্যাটারদের ভুলে।
এই পরিস্থিতিতেই দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেন রাহুল। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়েন তিনি। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন রবীন্দ্র জাডেজা। রান তোলার গতি খুব বেশি না হলেও উইকেট না হারিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান দু’জনে। তাঁদের জুটিতেই ভারতের রান ২০০ পেরোয়।
অবশেষে ৭৩ রানের জুটি ভাঙে। ব্রেসওয়েলের বলের বাউন্স বুঝতে না পেরে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাডেজা। ২৭ রান করেন তিনি। ভারত তখন ১৯১/৫। এর আগে ৫৭ রানে ভেঙে গিয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি—নীতীশ ফোকসের বলে গ্লেন ফিলিপস-এর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
নিচের দিকে হর্ষিত রানা আগের ম্যাচের মতো অবদান রাখতে পারেননি। চালিয়ে খেলতে গিয়ে ২ রানে আউট হন, লেনক্সের বলে ব্রেসওয়েলের হাতে ক্যাচ দেন।
তবে সব ব্যর্থতার মাঝেও একাই লড়াই চালিয়ে যান রাহুল। শতরান পূর্ণ করে ইনিংসের ভার নিজের কাঁধে নেন তিনি। তাঁর ধৈর্য, ম্যাচ সচেতন ব্যাটিংই ভারতকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়।
সব মিলিয়ে, রোহিত–কোহলির ব্যর্থতার দিনেও রাহুল প্রমাণ করলেন কেন কঠিন সময়ে ভারত তাঁর উপর ভরসা করে। এখন দেখার, ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে কিউয়িরা কতটা চাপ সামলাতে পারে।



