নজরবন্দি ব্যুরোঃ কিডনি (Kidney) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি যা আমাদের সামগ্রিক শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। একটি সুস্থ কিডনি শরীরে তরলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং টক্সিন ও বর্জ্য নির্গত করতে সাহায্য করে। তাই, সকলের মধ্যে সচেতনতা (Awareness) জাগাতে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ নেফ্রোলজি (ISN) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কিডনি ফাউন্ডেশন (IFKF)-এর যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছর ১০ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস (World Kidney Day) পালিত হয়।
আরও পড়ুনঃ সম্পূর্ণ বিকল চেরনোবিল ও জাপোরিঝঝিয়ার সিস্টেম, উদ্বেগ প্রকাশ জাতিসংঘের
কিডনির অসুখ ধরা পড়ে অনেকটা দেরিতে। অনেক ক্ষেত্রেই একটি কিডনি বিকল হয়ে গেলেও কাজ চলতে থাকে অন্যটি দিয়ে, ফলে ক্ষতি সম্পর্কে আগে থেকেই আঁচ করা যায় না। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত সে সম্পর্কে খুব একটা সচেতন হই না আমরা। কিডনির অসুখে খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে বেশ সচেতন থাকতে হয়। ঠিক কতটা জল খাবেন— সেই বিষয়েও চলে আসে বিধিনিষেধ।
কিডনিকে সুস্থ রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলা দরকার। কারণ যখন কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সমগ্র শরীর ধীরে ধীরে বিকল হতে শুরু করে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ দেখা দিলে, শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। একবার কিডনি নষ্ট হয়ে গেলে শরীরে হার্টজনিত রোগও দেখা দেয়।

এর পাশাপাশি কিডনির বিকল হলে এটি মৃত্যু অবধি ডেকে আনতে পারে। এই কারণে শরীরকে সুস্থ রাখতে চাইলে কিডনিকে সুস্থ রাখা জরুরি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। তাহলে চলুন জেনে নিই এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যা কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কিডনির অসুখে কী খাওয়া যেতে পারে?
- বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, ক্যাপসিকামে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন কে, সি, বি৬, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা দেহের ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে কিডনিকে শক্তিশালী করে।
- মাছ কিডনির জন্য উপকারী। হ্যাঁ, মাছ খাওয়া কিডনির জন্য সবচেয়ে উপকারী। মাছের মধ্যে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শরীরকে অনেক রোগের হাত থেকে দূরে রাখে। খাদ্যতালিকায় মাছ খাওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করলে আমরা কিডনির সমস্যা থেকেও দূরে থাকতে পারি।
- আপেল খেতে সবাই পছন্দ করে। আপেলে পেকটিন নামক ফাইবার থাকে, যা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাছাড়া কথাতেই রয়েছে যে প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের থেকে দূরে থাকা যায়। জাম, স্ট্রবেরি, আপেল, ব্লুবেরি, আনারস, লাল আঙুর ইত্যাদি কিডনি ভাল রাখতে সাহায্য করে। পেঁয়াজ ও রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কিডনির পক্ষে ভাল।
- আদা দেহের রক্ত চলাচল বাড়িয়ে কিডনিকে সচল রাখতে সাহায্য করে, ফলে কিডনির কার্যকারিতা বেড়ে যায়। শরীরে সঠিক মাত্রায় প্রোটিনের জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। তাই চিকেন খাওয়া যেতে পারে। তবে চামড়া ছা়ড়ানো চিকেন খাবেন। ডিমের সাদা অংশ, মাছ, দুধ বা দই থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।
কোন কোন বিষয়ে সচেতন থাকবেন?
জলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: কিডনির অসুখে শরীরে যাতে অতিরিক্ত জল না জমে, সে কারণে যে কোনও ধরনের তরল খাওয়ার পরিমাণ কমাতে বলা হয়। অনেকে জল খাওয়ার পরিমাণ কমালেও সুপ, ফলের রস, ডাল ইত্যাদির মাধ্যমে তরল খাবার খেয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সেগুলিও।
পরিমিত নুন: নুনের মধ্যে অত্যধিক মাত্রায় সোডিয়াম থাকে যা কিডনির পক্ষে মোটেই ভাল নয়। এর জন্য এখন অনেকেই কম সোডিয়াম যুক্ত নুন খান। তবে বাড়ির খাবারে আপনি নুন কম-বেশি করে দিতে পারেন, সমস্যা তৈরি হয় প্যাকেটজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে। কিডনির অসুখ হলে ‘জাঙ্ক ফুড’ এড়িয়ে চলাই ভাল।
কিডনির সমস্যা? সুস্থ রাখতে কোন কোন খাবারকে গুরুত্ব দেবেন জানুন

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা: কিডনির রোগীদের ডায়েট প্ল্যান করার সময় বিশেষ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। আগে জানতে হবে রোগী কোন স্টেজ রেনাল ডিজিজে আক্রান্ত। স্টেজ ১-এ ডায়েট এক রকম, আবার স্টেজ ৪-এ আর এক রকম। এই রোগীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিতে হয়, রোগীর শরীরে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদির মাত্রা কত। এর উপর নির্ভর করেই ঠিক করতে হবে রোগীর ডায়েট প্ল্যান।



